বাংলাদেশ সংবাদ
৫০ হাজার টাকা চাঁদা না দেওয়ায় হামলা, যুবকের হাতে ৯২ সেলাই
বাংলাদেশ প্রতিনিধি, ১০ সেপ্টেম্বর :
ঠাকুরগাঁও শহরে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা না দেওয়ায় এক যুবকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। স্কুল থেকে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে সালেকিন ফেরদৌস নামে ওই যুবকের গতিরোধ করে হামলা চালানো হয়। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তাঁর বাম হাত গুরুতর জখম হয়েছে। অস্ত্রোপচারের পর হাতে ৯২টি সেলাই দিতে হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে গত মঙ্গলবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের সামনে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সালেকিনের বোন শারমিন আখতার জাহান সদর থানায় মামলা করেছেন। মামলায় পূর্ব গোয়ালপাড়া এলাকার মো. রানা ও কলেজপাড়া এলাকার মো. সিয়ামকে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাত আরও দুজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা বেশ কিছুদিন ধরে সালেকিন ও তাঁর স্ত্রীর কাছে ৫০ হাজার টাকা চেয়ে আসছিলেন। টাকা না দিলে তাঁদের সন্তানকে স্কুলে যাতায়াতের পথে ক্ষতি করার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে সালেকিন স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার সময় প্রেসক্লাবের সামনে পৌঁছালে অভিযুক্তরা তাঁর পথ আটকায়। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এতে তাঁর বাম হাতের কবজির ওপরের অংশে গুরুতর জখম হয়। হাতের রগ, লিগামেন্ট ও পেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে পরিবারের দাবি।
হামলার সময় আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা অস্ত্র প্রদর্শন করে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যান বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে স্বজনেরা আহত সালেকিনকে ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে ঢাকার শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের পর তাঁর হাতে ৯২টি সেলাই দেওয়া হয়েছে।
সালেকিনের বোনের অভিযোগ, তাঁর ভাইকে পরিকল্পিতভাবে গুরুতর আহত করা হয়েছে এবং এর আগে চাঁদার দাবিতে তাঁকে একাধিকবার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
সালেকিনের ভাই শামীম ফেরদৌসের দাবি, অভিযুক্তদের একজনের বিরুদ্ধে দুটি হত্যা মামলা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে পুলিশের বক্তব্যে ওই দাবির স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহজাহান আলী জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযুক্তরা ঘটনার পর আত্মগোপনে রয়েছেন এবং তাঁদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে।
চাঁদার দাবিকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্য সড়কে এমন হামলার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা এবং হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।