নির্বাচনের আগে জমা পড়েনি ২০ হাজারের বেশি আগ্নেয়াস্ত্র

নির্বাচনের আগে জমা পড়েনি ২০ হাজারের বেশি আগ্নেয়াস্ত্র

ঢাকা, ১১ ফেব্রুয়ারি:  ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সারা দেশে বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র জমা দেওয়ার সরকারি নির্দেশনা মানেননি প্রায় ২০ হাজার লাইসেন্সধারী। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার পরও ২০ হাজার ২৮৮টি আগ্নেয়াস্ত্র এখনও সংশ্লিষ্ট থানায় জমা পড়েনি।
অন্তর্বর্তী সরকারের নির্দেশে নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সারা দেশে বৈধ অস্ত্রের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। এর অংশ হিসেবে ৩১ জানুয়ারির মধ্যে অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও এ পর্যন্ত জমা পড়েছে ২৭ হাজার ৯৯৫টি আগ্নেয়াস্ত্র। অথচ ব্যক্তি পর্যায়ে মোট লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্রের সংখ্যা ৪৮ হাজার ২৮৩টি।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অস্ত্র জমা না দিলে অস্ত্র আইন ১৮৭৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে লাইসেন্স বাতিল, অস্ত্র জব্দ এবং প্রয়োজনে ফৌজদারি মামলার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, জমা না পড়া অস্ত্রের একটি বড় অংশ আওয়ামী লীগ সরকারের সময় লাইসেন্সপ্রাপ্ত। এসব অস্ত্রের মালিকদের অনেকেই বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন, আবার কেউ কেউ দেশের ভেতরে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার পুলিশ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অস্ত্র সংক্রান্ত নিরাপত্তা ঝুঁকি সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেন, যেকোনো অস্ত্রই নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে। তিনি জানান, অবৈধ ও অনিবন্ধিত অস্ত্রের পাশাপাশি লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্রের অপব্যবহার ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচন ঘিরে সহিংসতা বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে অস্ত্র জমার বিষয়টি কঠোরভাবে তদারকি করা হচ্ছে। নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতিও চলছে।
নির্বাচনের আগে বিপুলসংখ্যক অস্ত্র এখনও ব্যক্তিমালিকানায় থাকায় সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সমন্বিত পদক্ষেপ জোরদার করছে।