প্রায় নয় কোটি নারীর মধ্যে নির্বাচনে মাত্র ৮৩ জন !
ভয়েস অব পিপল ডেস্ক, ১১ ফেব্রুয়ারি : দেশে মোট ভোটারদের প্রায় অর্ধেকই নারী। এবারের নির্বাচন ও গণভোটে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন ভোটার। তাদের মধ্যে নারী ভোটার রয়েছেন ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্য অনুযায়ী, মোট ভোটারের মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন। নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন। সংখ্যার হিসাবে কম হলেও প্রচার–প্রচারণা, বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে পুরো নির্বাচনী সময়ে আলোচনায় ছিলেন নারী প্রার্থীরা।
নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে মোট ৮৩ জন নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁদের মধ্যে ৬৩ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন পেয়েছেন এবং ২০ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন। রাজধানী ঢাকার ২০টি আসনের মধ্যে ১৩টি আসনে রয়েছেন ১৭ জন নারী প্রার্থী। ঢাকার বাইরে নির্বাচন করছেন ৬৭ জন নারী।
রাজধানীতে কয়েকটি আসনে নারী প্রার্থীরা বিশেষভাবে আলোচনায় উঠে এসেছেন। ঢাকা-৯ আসনে ডা. তাসনিম জারা, ঢাকা-৮ আসনে মেঘনা আলম, ঢাকা-১২ আসনে তাসলিমা আখতার, ঢাকা-১৪ আসনে সানজিদা ইসলাম, ঢাকা-১৯ আসনে দিলশানা পারুল এবং ঢাকা-২০ আসনে ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনীম ভোটের মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।
ঢাকা-৯ আসনের প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা ভিন্নধর্মী প্রচার-প্রচারণা ও নতুন ধারার রাজনীতির কথা তুলে ধরে ভোটারদের কাছে গেছেন। শুরুতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে দলটি থেকে পদত্যাগ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। নির্বাচনী গণসংযোগে তিনি বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের পর আমাদের দেশকে নতুনভাবে সাজানোর সুযোগ এসেছে।’
ঢাকা-১৪ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে নির্বাচন করছেন সানজিদা ইসলাম। তাঁর ইশতেহারে রয়েছে সন্ত্রাস, মাদক ও দখলবাজমুক্ত একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য এলাকা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি। প্রচারণায় তিনি স্থানীয় সমস্যাগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে ভোটারদের কাছে সমর্থন চেয়েছেন।
ঢাকা-১৯ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী দিলশানা পারুল নারীর সামাজিক নিরাপত্তা ও স্বাধীনতার কথা তুলে ধরছেন। গণসংযোগে তিনি বলেন, ‘আমি এমন একটি সমাজের স্বপ্ন দেখি, যেখানে নারীরা বসে নারীদের চায়ের দোকানে আড্ডা দেবে।’ তাঁর এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রাজধানীর বাইরে ফরিদপুর-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন নায়াব ইউসুফ আহমেদ। তিনি বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও পাঁচবারের সংসদ সদস্য চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের মেয়ে। নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি বলেন, ‘দেড় শ বছর ধরে আমার পরিবার এই ফরিদপুরে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। আমরা কোনো দিন আপনাদের রেখে পালিয়ে যাইনি।’
নেত্রকোনা-৪ আসনে কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী জলি তালুকদার হাওর এলাকার মানুষের অধিকার আদায়ের কথা সামনে রেখে প্রচার চালাচ্ছেন। ‘জাল যার, জলা তার’—এই স্লোগান নিয়ে তিনি শ্রমিক, কৃষক ও মেহনতি মানুষের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। প্রচারণায় তিনি বলেন, ‘এবার সবাই কাস্তে মার্কায় ভোট দিয়ে নীরবে বিপ্লব ঘটিয়ে দিন। নিজেদের ভাগ্য নিজেদেরই পরিবর্তন করতে হবে।’
সংখ্যায় কম হলেও এবারের নির্বাচনে নারী প্রার্থীদের বক্তব্য, ইশতেহার ও রাজনৈতিক অবস্থান ভোটের মাঠে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।