ভূমধ্যসাগরে আরেকটি মৃত্যু-যাত্রা: লিবিয়ার উপকূলে রাবারের নৌকা ডুবে ৫৩ অভিবাসীর করুণ মৃত্যু
বিশ্ব সংবাদ ডেস্ক, ৯ ফেব্রুয়ারি : উত্তর আফ্রিকার লিবিয়া উপকূলে আবারও ঘটল সেই ভয়াবহ দৃশ্য—রাবারের নৌকা উল্টে সাগরে তলিয়ে গেল অন্তত ৫৩টি জীবন। তাদের মধ্যে ছিল দুই শিশু। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএম নিশ্চিত করেছে, নৌকার যাত্রীদের মধ্যে মাত্র দু’জন নারী বেঁচে ফিরেছেন; দু’জনই নাইজেরিয়ার নাগরিক। বাকিরা সবাই ভূমধ্যসাগরের নির্মম ঢেউয়ে হারিয়ে গেলেন।
আল-জাওইয়া উপকূল থেকে রাত ১১টার দিকে যাত্রা শুরু করেছিল নৌকাটি। ইউরোপে পৌঁছানোর স্বপ্নে বুক ভরা মানুষগুলো জানত না, কয়েক ঘণ্টা পরই সেই স্বপ্ন পরিণত হবে দুঃস্বপ্নে। ভোরের দিকে জুওয়ারার উত্তরে নৌকাটিতে পানি ঢুকে সেটি উল্টে যায়। উদ্ধারকারী দল যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, তখন সাগর শুধু নিথর দেহ আর ভাঙা স্বপ্নের সাক্ষী।
আইওএম জানায়, বেঁচে যাওয়া নারীদের একজন তার স্বামীকে হারিয়েছেন। অন্যজন হারিয়েছেন তার দুই সন্তানকে। তাদের কান্না, তাদের অসহায় চিৎকার—সবই বলে দেয় এই যাত্রা কতটা নিষ্ঠুর ছিল। উদ্ধারকারীরা দু’জনকে জরুরি চিকিৎসা দিয়েছে, কিন্তু তাদের হৃদয়ের ক্ষত সারার নয়।
চলতি বছর এখন পর্যন্ত লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে প্রায় ৫০০ মানুষ নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন। শুধু জানুয়ারিতেই ভয়াবহ শীতের মধ্যে একের পর এক নৌকাডুবিতে প্রাণ গেছে অন্তত ৩৭৫ জনের। প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে আইওএম।
লিবিয়ায় অভিবাসীদের অবস্থা যে কতটা ভয়াবহ, তা বহুবার নথিভুক্ত হয়েছে—মিলিশিয়া গোষ্ঠীর হাতে নির্যাতন, মানবপাচার, জোরপূর্বক শ্রম, চাঁদাবাজি—সব মিলিয়ে জীবন সেখানে এক দুঃসহ বন্দিশালা। এই নরক থেকে পালাতে গিয়েই তারা ঝুঁকি নেয় সাগরপথে, যেখানে মৃত্যু প্রায় নিশ্চিত।
আইওএম বলছে, পাচারকারী চক্রগুলো অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করে অনুপযোগী নৌকায় মানুষ তুলছে, আর এই মুনাফার খেলায় প্রতিদিন বাড়ছে লাশের সংখ্যা। সংস্থাটি পাচারচক্র ভাঙতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে এবং নিরাপদ, বৈধ অভিবাসনের পথ তৈরির ওপর জোর দিয়েছে।
ভূমধ্যসাগরের ঢেউ আজও সেই ৫৩টি প্রাণের শেষ আর্তনাদ বয়ে বেড়াচ্ছে—আর পৃথিবী আবারও দেখল, স্বপ্নের খোঁজে বের হওয়া মানুষগুলো কীভাবে মৃত্যুর মুখে হারিয়ে যায়।