বিদেশ সফরে বাংলাদেশি মন্ত্রীদের হোটেল ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আপত্তি

বিদেশ সফরে বাংলাদেশি মন্ত্রীদের হোটেল ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আপত্তি

ঢাকা প্রতিনিধি: 

বাংলাদেশের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের বিদেশ সফরে হোটেলভাতা বাবদ বরাদ্দ বর্তমান বাজার পরিস্থিতির তুলনায় অপ্রতুল হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জীবনযাত্রার ব্যয় ও মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি পাওয়ায় নির্ধারিত ভাতায় মানসম্মত আবাসন নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানানো হয়েছে।

দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক প্রস্তাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হোটেলভাতার বরাদ্দ বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। তবে অর্থ মন্ত্রণালয় সেই প্রস্তাবে সায় দেয়নি বলে জানা গেছে।

২০১২ সালের ৯ অক্টোবর নির্ধারিত নির্দেশিকা অনুযায়ী, বাংলাদেশি মন্ত্রীদের জন্য প্রথম শ্রেণিভুক্ত ৩০টি দেশে হোটেলভাতা দৈনিক ৪২০ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৫১ হাজার টাকার বেশি) এবং প্রতিমন্ত্রীদের জন্য ৩১২ ডলার (প্রায় ৩৮ হাজার টাকা) নির্ধারিত রয়েছে। এই তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, ফ্রান্স, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, রাশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, গত এক দশকেরও বেশি সময়ে বিশ্বব্যাপী হোটেল ভাড়া ও জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বৈঠক বা সম্মেলনে অংশ নিতে গিয়ে নির্ধারিত ভাতায় মানসম্মত হোটেল পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে। বিষয়টি উল্লেখ করে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম অর্থ সচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদারের কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাঠিয়েছেন।

তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অবস্থান, এ ধরনের বরাদ্দ বৃদ্ধি করলে সরকারের সামগ্রিক ব্যয় আরও বাড়বে। বর্তমানে বিভিন্ন খাতে ব্যয় সংকোচনের নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। তাই হোটেলভাতা বাড়ানোর প্রস্তাবে আপাতত অনুমোদন দেওয়া হয়নি।

এর আগে সরকারিভাবে আরও একটি কড়াকড়ি সিদ্ধান্তে সচিব ও সমমর্যাদার কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরে বিজনেস ক্লাসের বদলে ইকোনমি ক্লাসে ভ্রমণের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সব মিলিয়ে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ বনাম কূটনৈতিক বাস্তবতা—এই দুই অবস্থানের টানাপোড়েনেই আটকে আছে মন্ত্রীদের বিদেশ সফরের হোটেলভাতা বৃদ্ধির বিষয়টি।