বাংলাদেশ সীমান্তে দেড় মাসের মধ্যে কাঁটাতারের বেড়া দেবার পরিকল্পনা করছে বিজেপি সরকার

বাংলাদেশ সীমান্তে দেড় মাসের মধ্যে কাঁটাতারের বেড়া দেবার পরিকল্পনা করছে বিজেপি সরকার

কোলকাতা প্রতিনিধি, ১১ মে:

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবার বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তকে ঘিরে বড় ধরনের নিরাপত্তা উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে নবগঠিত বিজেপি সরকার। দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে সরকার গঠনের মাত্র ৪৫ দিনের মধ্যেই প্রয়োজনীয় জমি বরাদ্দের ঘোষণা এসেছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

বিজেপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সীমান্তে অনুপ্রবেশ শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা এখন কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ অগ্রাধিকার। এতদিন জমি অধিগ্রহণের জটিলতা এবং প্রশাসনিক টানাপোড়েনের কারণে সীমান্তের বহু অংশে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ থেমে ছিল। নতুন সরকার সেই জট দ্রুত কাটিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে মাঠে নামছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পরিবর্তন শুধু রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোতেই নয়, সীমান্ত নিরাপত্তা নীতিতেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। গত দেড় দশকে কেন্দ্রীয় সরকার ও তৃণমূল প্রশাসনের মধ্যে সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে একাধিকবার দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে বিএসএফের কার্যপরিধি ১৫ কিলোমিটার থেকে বাড়িয়ে ৫০ কিলোমিটার করার কেন্দ্রীয় প্রস্তাবকে তীব্র বিরোধিতা করেছিল তৎকালীন রাজ্য সরকার। মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন প্রশাসন একে রাজ্যের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখেছিল।

ফলে সীমান্ত এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো, গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা এবং অনুপ্রবেশ রোধে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা দীর্ঘদিন ঝুলে ছিল। তবে বিজেপি নেতৃত্ব বলছে, নতুন পরিস্থিতিতে বিএসএফ ও রাজ্য পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করবে এবং কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাগুলোকেও পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হবে।

খাগড়াগড় ও ভূপতিনগর বিস্ফোরণের মতো স্পর্শকাতর ঘটনার তদন্তে অতীতে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোকে বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল বলে অভিযোগ ছিল। নতুন প্রশাসন সেই অবস্থান থেকে সরে এসে নিরাপত্তা ইস্যুকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে চায় বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

এদিকে পশ্চিমবঙ্গে ঐতিহাসিক জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “বাংলায় প্রথমবারের মতো ফুটেছে পদ্ম।” বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব মনে করছে, এই বিজয় সীমান্ত সুরক্ষা, অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং জাতীয় নিরাপত্তা জোরদারের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।

৪৫ দিনের মধ্যে জমি বরাদ্দের পরিকল্পনাকে তাই শুধুমাত্র প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির নতুন নিরাপত্তা নীতির প্রথম বড় পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।