বিমানবন্দর ও ইমিগ্রেশনে প্রবাসী শ্রমিকদের হয়রানি বন্ধে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার : মন্ত্রী আরিফুল হক

বিমানবন্দর ও ইমিগ্রেশনে প্রবাসী শ্রমিকদের হয়রানি বন্ধে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার : মন্ত্রী আরিফুল হক

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি:

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সফররত শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীকে সংবর্ধনা দিয়েছে তার নির্বাচনী এলাকার প্রবাসী বাংলাদেশীদের সামাজিক সংগঠন ‘ফাউন্ডেশন অব গ্রেটার জৈন্তা’।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটস এলাকার নবান্ন পার্টি সেন্টারে এই মতবিনিময় ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, তিনি সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য হলেও বর্তমানে মন্ত্রী হিসেবে সারা দেশের দায়িত্ব তার ওপর অর্পিত হয়েছে। তিনি বলেন, “ন্যায় ও সততার সাথে দায়িত্ব পালন করতে চাই, এজন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।”

নিজের রাজনৈতিক যাত্রার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিনি কখনো এমপি বা মন্ত্রী হতে চাননি; দল ও জনগণের সিদ্ধান্তেই তিনি নির্বাচিত হয়েছেন। এজন্য তিনি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। বিশেষভাবে তিনি দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী সিলেটসহ সারা দেশের উন্নয়নে যে নির্দেশনা দিয়েছেন, তা আগামী এক বছরের মধ্যে দৃশ্যমান হবে। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগ পর্যন্ত ছিল জনগণের দায়িত্ব, এখন সেই দায়িত্ব জনপ্রতিনিধিদের। তারাই জনগণের আশা-আকাঙ্খা বাস্তবায়ন করবেন এবং আগামী কিছুদিনের মধ্যে সে অগ্রগতি সম্পর্কে জনগণ অবগত হতে পারবেন।

বিদেশেকর্মী প্রেরণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ে বিদেশগামী কর্মীদের নিয়ে সিন্ডিকেট সক্রিয় ছিল। সেই সিন্ডিকেড আমরা চিহ্নিত করেছি। ইতিমধ্যেই দুজনকে গেফেতার করা হয়েছে। এখন থেকে শুধু টিকিটের খরচে কর্মীরা বিদেশ যেতে পারবেন বলে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। বিদেশে লোক পাঠানোর আগে তাদেরকে ট্রেইন আপের উপরও গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। তিনি আরও জানান, যেকোন বিমানবন্দরে লাগেজ নিয়ে হয়রানি ও কাটাছেঁড়া এবং ইমিগ্রেশনে অহেতুক ভোগান্তি বন্ধে ইতোমধ্যেই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

ফাউন্ডেশন অব গ্রেটার জৈন্তার পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে মন্ত্রীর হাতে ৭ দফা দাবিসংবলিত একটি স্মারকলিপি ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মাওলানা রশীদ আহমদ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক জামীল আনসারী। কোরআন তেলাওয়াত ও দোয়ার মাধ্যমে শুরু হওয়া এ আয়োজন পরিচালনা করেন আসসাফা ইসলামিক সেন্টারের ইমাম মাওলানা রফিক আহমেদ রেফাহী।

বিশেষ অতিথিদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি আজমল হোসেন কুনু, সাংবাদিক ও টাইম টিভির সিইও আবু তাহের, চিকিৎসক ডা. জুন্নুন চৌধুরীসহ প্রবাসী কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা প্রবাসীদের সমস্যা ও বিভিন্ন দাবির কথা তুলে ধরেন। মন্ত্রী বলেন, সিলেট-৪ আসনের গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও কোম্পানীগঞ্জ এলাকা দীর্ঘদিন অবহেলিত হলেও এগুলো সম্ভাবনাময় পর্যটন ও শ্রমনির্ভর অঞ্চল। তিনি জানান, এলাকার উন্নয়ন সমস্যা সম্পর্কে তিনি অবগত এবং ধাপে ধাপে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিদেশে কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতিরিক্ত খরচে বিদেশগামী শ্রমিকদের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় সিন্ডিকেট ছিল, যা ইতিমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং কিছু গ্রেপ্তারও হয়েছে। ভবিষ্যতে শ্রমিকরা শুধু টিকিট খরচেই বিদেশ যেতে পারবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও জানান, বিমানবন্দর ও ইমিগ্রেশনে প্রবাসী শ্রমিকদের হয়রানি ও ভোগান্তি কমাতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। মন্ত্রী বলেন, “জনগণের দায়িত্ব ছিল নির্বাচনের আগে, এখন দায়িত্ব জনপ্রতিনিধিদের। আমরা জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে কাজ করছি।”

অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি উপস্থিত ছিলেন এবং অনেকেই বক্তব্যের সময় স্বল্পতার কারণে নিজেদের সময় মন্ত্রীকে দিয়ে দেন—যা অনুষ্ঠানে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়।