রিসেট ভাষণেও থামেনি বিদ্রোহ
৭০ মন্ত্রী প্রকাশ্যে প্রধানমন্ত্রী স্যার স্টারমারের পদত্যাগ দাবি করছেন
লন্ডন, ১১ মে, সর্বশেষ খবর:
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের বিরুদ্ধে নিজ দল লেবার পার্টির ভেতরেই বিদ্রোহ আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। সরকারের তিনজন মন্ত্রী-সহকারী (Parliamentary Private Secretary বা PPS) পদত্যাগ করেছেন এবং প্রকাশ্যে স্টারমারের সরে দাঁড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন করে নেতৃত্ব সংকটের আভাস দেখা দিয়েছে।
স্বাস্থ্য সচিব Wes Streeting-এর পার্লামেন্টারি প্রাইভেট সেক্রেটারি জো মরিস পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে বলেন, দল ও দেশের স্বার্থে স্টারমারের দায়িত্ব ছাড়ার সময় এসেছে। একই দিনে পরিবেশ সচিব Emma Reynolds-এর সহকারী টম রাটল্যান্ডও পদত্যাগ করেন। তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর বিদায়ের জন্য একটি সময়সূচি ঘোষণার দাবি তোলেন।
হোম অফিসের সহকারী Naushabah Khan-ও সরকারের ফ্রন্টবেঞ্চ ছেড়ে দেন। এছাড়া ডনকাস্টার সেন্ট্রালের এমপি এবং Shabana Mahmood-এর পার্লামেন্টারি সহকারী স্যালি জেমসনও স্টারমারের পদত্যাগ দাবি করেছেন, যদিও তিনি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পদ ছাড়েননি।
প্রথমদিকে ৫৫ জনের বেশি লেবার এমপি স্টারমারের পদত্যাগ দাবি করলেও পরে সেই সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। সর্বশেষ পাওয়া তথ্যে ডনকাস্টার ইস্ট ও আইল অব অ্যাক্সহোমের এমপি লি পিচার যুক্ত হওয়ার পর সংখ্যাটি ৭০-এ পৌঁছেছে। তিনি বলেন, “দেশ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে আমরা ভুল পথে এগোচ্ছি। এখন নতুন দিকনির্দেশনা প্রয়োজন।”
আরেক লেবার এমপি ইউয়ান ইয়াংও বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থানকে “অটেকসই” বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি মনে করেন, সরকার জনগণের আস্থা হারাচ্ছে এবং প্রধানমন্ত্রীর উচিত সুশৃঙ্খলভাবে বিদায়ের রোডম্যাপ ঘোষণা করা।
সম্প্রতি ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির হতাশাজনক ফলের পর থেকেই স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সোমবার সকালে তিনি একটি ‘রিসেট’ ভাষণ দেন। কিন্তু সেই ভাষণ উল্টো দলীয় অসন্তোষ আরও বাড়িয়ে দেয় বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
ব্রিটিশ পার্লামেন্টে PPS পদটি সাধারণত মন্ত্রীদের সহকারী হিসেবে কাজ করে। তারা সরকার ও ব্যাকবেঞ্চ এমপিদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করেন এবং দলের অভ্যন্তরীণ মনোভাব সম্পর্কে মন্ত্রীদের পরামর্শ দেন। সেই গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকা ব্যক্তিদের একযোগে পদত্যাগকে স্টারমারের নেতৃত্বের ওপর বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, লেবার পার্টির ভেতরে এখন যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে স্টারমারের নেতৃত্ব আরও বড় সংকটে পড়তে পারে।