লেবারে বিদ্রোহের আগুন: ৮৭ এমপি ও মন্ত্রীদের চাপে টালমাটাল স্টারমার সরকার

লেবারে বিদ্রোহের আগুন: ৮৭ এমপি ও মন্ত্রীদের চাপে টালমাটাল স্টারমার সরকার

ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট | লন্ডন, ১২ মে :
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী Keir Starmer এখন এমন এক রাজনৈতিক ঝড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছেন, যেখানে প্রতিটি ঘণ্টাই তার নেতৃত্বের জন্য নতুন পরীক্ষা হয়ে উঠছে। লেবার পার্টির ভেতরে বিদ্রোহ ক্রমশ প্রকাশ্য রূপ নিচ্ছে, মন্ত্রীরা পদত্যাগ করছেন, এমপিরা প্রকাশ্যে নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবি তুলছেন—তবু স্টারমার সরে দাঁড়ার কোনো ইঙ্গিত দেননি।

মঙ্গলবারের মন্ত্রিসভার বৈঠককে ঘিরে ওয়েস্টমিনস্টারে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, তা অনেকের কাছেই ব্রিটিশ রাজনীতির সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে নাটকীয় মুহূর্তগুলোর একটি। বৈঠকের আগেই খবর ছড়িয়ে পড়ে, সরকারের অন্তত ছয়জন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সামনে তার বিদায়ের সময়সূচি চাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন।

এই তালিকায় ছিলেন স্বাস্থ্য সচিব Wes Streeting, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Yvette Cooper, জ্বালানিমন্ত্রী Ed Miliband, বিচারমন্ত্রী Shabana Mahmood, প্রতিরক্ষামন্ত্রী John Healey এবং সংস্কৃতিমন্ত্রী Lisa Nandy

কিন্তু স্টারমার বৈঠকের শুরুতেই কার্যত বিদ্রোহীদের মুখ বন্ধ করে দেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, লেবার পার্টিতে নেতৃত্ব পরিবর্তনের একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে এবং সেটি এখনো কার্যকর হয়নি। এরপর দ্রুত আলোচনাকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, অর্থনৈতিক ঝুঁকি এবং সরকারের প্রস্তুতির দিকে ঘুরিয়ে দেন।

অর্থাৎ বার্তাটি ছিল পরিষ্কার—“যদি সরাতেই চাও, নিয়ম মেনেই সরাও।”

তবে বৈঠক শেষ হওয়ার আগেই সংকট আরও ঘনীভূত হয়। একের পর এক তিন মন্ত্রী পদত্যাগ করেন। প্রথমে সরে দাঁড়ান কমিউনিটিজ মন্ত্রী Miatta Fahnbulleh। পরে পদত্যাগ করেন সেফগার্ডিং মন্ত্রী Jess Phillips এবং ভিকটিমস মিনিস্টার Alex Davies-Jones

জেস ফিলিপস তার পদত্যাগপত্রে অভিযোগ করেন, নারী ও কিশোরীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা রোধে সরকার যথেষ্ট কার্যকর নয়। আর অ্যালেক্স ডেভিস-জোনস বলেন, স্থানীয় নির্বাচনে লেবারের ভয়াবহ বিপর্যয় জনগণের অসন্তোষ স্পষ্ট করে দিয়েছে এবং এখন নেতৃত্ব পরিবর্তনের সময় এসেছে।

রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয় হলো—স্টারমারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ এখন শুধু ব্যাকবেঞ্চে সীমাবদ্ধ নেই; তা সরকারের ভেতরেও ছড়িয়ে পড়েছে।

বিভিন্ন ব্রিটিশ গণমাধ্যমের তথ্যমতে, অন্তত ৮৭ জন লেবার এমপি এখন স্টারমারকে সরাতে চান। তবে সমস্যা হচ্ছে, বিদ্রোহীরা এখনো একক কোনো বিকল্প নেতৃত্বে একমত হতে পারেননি।

একটি অংশের পছন্দ Andy Burnham। যদিও তিনি বর্তমানে সংসদ সদস্য নন। অন্যদিকে আরেকটি অংশ চাইছে ওয়েস স্ট্রিটিং সামনে আসুন। তবে স্ট্রিটিং এখনো প্রকাশ্যে নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জ ঘোষণা করেননি।

এদিকে স্টারমারের ঘনিষ্ঠরা পাল্টা শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা করছেন। শতাধিক এমপি ও মন্ত্রীপর্যায়ের সহকারীরা তার সমর্থনে চিঠিতে সই করেছেন বলে খবর বেরিয়েছে। কয়েকজন মন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রধানমন্ত্রীর পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংখ্যার খেলা দিয়ে হয়তো আপাতত স্টারমার টিকে যেতে পারেন, কিন্তু নেতৃত্বের নৈতিক ও রাজনৈতিক ভিত্তি দ্রুত ক্ষয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় নির্বাচনে লেবারের বড় ধাক্কা, জনমতের অবনতি এবং দলের ভেতরের বিভক্তি এখন মিলেমিশে এক ভয়ংকর সংকটে পরিণত হয়েছে।

ওয়েস্টমিনস্টারের করিডোরে এখন অনেকে বলছেন, এটি আর শুধু “নেতৃত্ব সংকট” নয়; এটি লেবার পার্টির ভবিষ্যৎ চরিত্র নিয়ে পূর্ণাঙ্গ ক্ষমতার লড়াই।

আর সেই লড়াইয়ে আপাতত স্টারমার একা নন—কিন্তু তিনি আগের চেয়ে অনেক বেশি ঘেরাও হয়ে পড়েছেন।