ব্রিটেন সংবাদ
ব্রিটেনে বিদ্যুৎ বিল কমাতে ‘গোপন কর’ তুলে নেওয়ার দাবি, বছরে £২৫০ পর্যন্ত সাশ্রয়ের সম্ভাবনা
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ১৩ সেপ্টেম্বর :
ব্রিটেনে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিলের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ‘গোপন কর’ বা নীতিগত লেভি সরিয়ে দেওয়ার জন্য চ্যান্সেলর জন হিলিকে চাপ দিচ্ছে ব্যবসা, দাতব্য প্রতিষ্ঠান, ভোক্তা সংগঠনসহ ১২০টির বেশি প্রতিষ্ঠান। তাদের দাবি, এসব খরচ সরাসরি গ্রাহকের বিলের ওপর চাপিয়ে না দিয়ে সরকারকে তা বহন করতে হবে।
সংগঠনগুলোর যৌথ চিঠিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি জ্বালানি নীতির অর্থ সংগ্রহ করতে বিদ্যুৎ বিলের ওপর যে লেভিগুলো বসানো হয়, সেগুলো মোট বিলের প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। এর মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প, পারমাণবিক বিদ্যুৎ-সংক্রান্ত নীতি এবং নিম্নআয়ের মানুষের জন্য Warm Home Discount-এর মতো কর্মসূচির খরচ রয়েছে।
তাদের হিসাব অনুযায়ী, এসব ব্যয় সরকার সরাসরি বহন করলে একটি সাধারণ পরিবারের বার্ষিক জ্বালানি বিল প্রায় £২৫০ পর্যন্ত কমতে পারে। একই সঙ্গে ব্যবসার বিদ্যুৎ খরচ প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, ব্রিটেনে বিদ্যুতের উচ্চমূল্য শুধু পরিবারের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়াচ্ছে না, উৎপাদন খরচও বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে ছোট-বড় ব্যবসা বিনিয়োগ কমাতে, কর্মী ছাঁটাই করতে কিংবা কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হতে পারে। Energy UK-ও সতর্ক করেছে, উচ্চ বিদ্যুৎমূল্য ব্যবসা বন্ধ ও কর্মসংস্থান কমার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
গত কয়েক বছরে ব্রিটেনে জ্বালানি ব্যয় বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে। ২০২১ সালের তুলনায় এনার্জি বিল প্রায় ৭০ শতাংশ বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধিও বড় ভূমিকা রেখেছে। সামনে আবারও বিল বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ অবস্থায় ব্যবসা ও ভোক্তা সংগঠনগুলোর দাবি, সরকার যদি জ্বালানি নীতির সামাজিক ও পরিবেশগত ব্যয় জনগণের বিদ্যুৎ বিলের ওপর না চাপিয়ে রাষ্ট্রীয় বাজেট থেকে বহন করে, তাহলে একই সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি ও ব্যবসার পরিচালন ব্যয়—তিন ক্ষেত্রেই চাপ কমানো সম্ভব।
চ্যান্সেলর জন হিলির সামনে এখন বড় প্রশ্ন—অক্টোবরের বাজেটে তিনি জ্বালানি বিলের এই অতিরিক্ত চাপ কমানোর উদ্যোগ নেবেন কি না। সরকারের জন্য বিষয়টি সহজ নয়; কারণ এসব লেভি সরিয়ে নিলে একদিকে পরিবার ও ব্যবসা স্বস্তি পাবে, অন্যদিকে সরকারের নিজস্ব ব্যয় ও বাজেটের ওপর নতুন চাপ তৈরি হবে। হিলির ২৮ অক্টোবরের বাজেট তাই জ্বালানি বিল কমানোর দাবির জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।
ব্রিটিশ পরিবারগুলোর জন্য মূল প্রশ্ন এখন একটাই—বিদ্যুৎ বিলের ভেতরে থাকা এই অতিরিক্ত খরচের বোঝা গ্রাহক বহন করবেন, নাকি সরকার তা নিজের কাঁধে নেবে?