ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি
মির্জা ফখরুলের পদত্যাগে বিএনপিতে নেতৃত্ব ও মন্ত্রিসভা পুনর্বিন্যাসের আলোচনা
বাংলাদেশ প্রতিনিধি, ১৪ আগস্ট : প্রেসিডেন্ট পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম ঘোষণার পর দল ও সরকারে বড় ধরনের নেতৃত্ব পুনর্বিন্যাসের আলোচনা শুরু হয়েছে। দলীয় মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্যপদ ছাড়ার পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রক্রিয়া শেষ হলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থেকেও তার সরে দাঁড়ানোর কথা রয়েছে।
দলীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশনের যাচাই-বাছাইয়ে তার প্রার্থিতা চূড়ান্ত হওয়ার পর মির্জা ফখরুল মন্ত্রণালয় থেকে পদত্যাগ করতে পারেন। আগামী ২০ আগস্ট প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচিত হয়ে শপথ নেয়ার পর সরকার ও বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোয় আরও কিছু পরিবর্তন আসতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে।
আগামী ১৭ আগস্ট বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হচ্ছে। এর আগে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা এবং মন্ত্রীদের কাজের মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন। ফলে ফখরুলের পদত্যাগের সঙ্গে সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা পুনর্বিন্যাসের বিষয়টিও নতুন করে সামনে এসেছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির দুই সদস্যের বরাতে জানা গেছে, প্রেসিডেন্টের শপথের আগে মন্ত্রিসভায় বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। শপথের পর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়সহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে রদবদল হতে পারে। কয়েকজন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পরিবর্তনের পাশাপাশি কেউ কেউ সরকার থেকে বাদও পড়তে পারেন—এমন আলোচনা দলের ভেতরে রয়েছে। তবে এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
মির্জা ফখরুলের জায়গায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কে পাবেন, তা নিয়েও চলছে আলোচনা। সম্ভাব্য নাম হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের কথা শোনা যাচ্ছে। তাকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে আনা হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে পরিবর্তন আসতে পারে।
সেক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানীর নাম আলোচনায় রয়েছে। তিনি আগে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে এ্যানী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গেলে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়েও নতুন দায়িত্ব বণ্টনের প্রয়োজন হবে। ওই মন্ত্রণালয়ের সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়েও দলের মধ্যে আলোচনা চলছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের নাম এ ক্ষেত্রে আলোচনায় রয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
অন্যদিকে মির্জা ফখরুলের দলীয় পদ ছাড়ার পর বিএনপির মহাসচিব কে হচ্ছেন, সেটিই এখন দলের অভ্যন্তরে সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্নগুলোর একটি। দলীয় সূত্রের দাবি, আগামী ডিসেম্বরের জাতীয় কাউন্সিল পর্যন্ত সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেয়া হতে পারে। পরে কাউন্সিলের মাধ্যমে স্থায়ী মহাসচিব নির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে সম্প্রতি সচিবালয়ে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের বৈঠকে পরবর্তী মহাসচিবের নাম নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানিয়েছেন দলের একজন হুইপ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বৈঠকের মূল বিষয় ছিল প্রেসিডেন্ট পদে দলের প্রার্থী নির্বাচন ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিএনপি সরকার গঠন করে। এরপর ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়। বর্তমান মন্ত্রিসভায় ২৪ জন মন্ত্রী, ২৩ জন প্রতিমন্ত্রী এবং মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় ১০ জন উপদেষ্টা রয়েছেন।
মির্জা ফখরুলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়া এবং একই সঙ্গে দলীয় ও সরকারি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর প্রক্রিয়া তাই শুধু একটি পদ পরিবর্তনের ঘটনা নয়; এর সঙ্গে বিএনপির দলীয় নেতৃত্ব এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোর দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের সম্ভাবনাও জড়িয়ে আছে। তবে আলোচনায় থাকা নামগুলোর কোনোটিই এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি।