রাজনৈতিক শীতলতার মধ্যেও ভাতের বাস্তবতা: ভারত থেকে ৫০ হাজার টন চাল কিনছে বাংলাদেশ

রাজনৈতিক শীতলতার মধ্যেও ভাতের বাস্তবতা: ভারত থেকে ৫০ হাজার টন চাল কিনছে বাংলাদেশ

লন্ডন | ভয়েস অব পিপল, ১৫ ডিসেম্বর: 

ভারতের সাথে রাজনৈতিক সম্পর্কে টানাপড়েন থাকলেও খাদ্য নিরাপত্তার প্রশ্নে বাস্তবতার পথেই হাঁটছে বাংলাদেশ। ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে ভারত থেকে ৫০ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। শেখ হাসিনাকে নিয়ে দু’দেশের সম্পর্কে শৈত্য বজায় রয়েছে। বিস্তর টানাপড়েন চলছে কূটনৈতিক সম্পর্কে।  প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি মেট্রিক টন চালের মূল্য ধরা হয়েছে ৩৫১ দশমিক ১১ মার্কিন ডলার। সব মিলিয়ে চাল আমদানিতে বরাদ্দ করা হয়েছে ২১৪ কোটি ৭০ লাখ ৩৭ হাজার ৬৫০ টাকা। সরকারের পক্ষ থেকে আগেই জানানো হয়েছিল, দেশের অভ্যন্তরীণ খাদ্য উৎপাদনে ঘাটতির কারণে একাধিক দেশ থেকে চাল আমদানির পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

যদিও কোনও একটি দেশের উপর নির্ভরশীল না থাকার নীতি নিয়েছে ইউনূসের প্রশাসন, তবুও ব্যয় ও পরিবহন সুবিধার দিক থেকে ভারতকেই সবচেয়ে সাশ্রয়ী মনে করছে ঢাকা। বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মায়ানমার থেকে চাল আমদানিতে টনপিছু খরচ পড়ে প্রায় ৫১৫ ডলার, আর ভিয়েতনাম থেকে কিনতে গেলে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫২১ ডলারে। তুলনামূলকভাবে ভারত থেকে চাল আমদানির খরচ অনেক কম, পাশাপাশি ভৌগোলিক নৈকট্য ও সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থাও বড় সুবিধা হিসেবে দেখছে সরকার।

ভারতের পক্ষ থেকেও আগেই জানানো হয়েছিল, কূটনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব বাণিজ্যিক সম্পর্কের উপর পড়বে না। এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে বৈঠকও হয়েছে। বাংলাদেশের বিদেশসচিবের সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতের বিদেশসচিব বিক্রম মিস্রি।

তবে বাণিজ্যে বাস্তববাদী অবস্থান নিলেও, হাসিনা আমলের কিছু কৌশলগত চুক্তি থেকে সরে এসেছে অন্তর্বর্তী সরকার। আদানি গোষ্ঠীর সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহ চুক্তি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে ইউনূস প্রশাসন। পাশাপাশি ভারতকে দেওয়া ‘ব্যান্ডউইথ ট্রানজিট’ সুবিধাও গত বছর প্রত্যাহার করা হয়েছে। এতে ভারতের বড় টেলিকম সংস্থা ভারতী এয়ারটেল ক্ষতির মুখে পড়ে।

সব মিলিয়ে রাজনৈতিক দূরত্ব বজায় থাকলেও, খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার কারণে ভারত-বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আপাতত বিচ্ছিন্ন হচ্ছে না—এটাই স্পষ্ট করে দিচ্ছে চাল আমদানির এই সিদ্ধান্ত।