তরুণদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে মাসের মধ্যেই পদক্ষেপ: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ১৬ ফেব্রুয়ারি: প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, তরুণদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের বিষয়ে সরকার “বছরের পর বছর নয়, মাসের মধ্যেই” পদক্ষেপ নেবে। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, এর অর্থ এই নয় যে ১৬ বছরের নিচের সবার জন্য সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা চূড়ান্তভাবে আরোপ করা হবে।
লন্ডনে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে স্টারমার বলেন, শিশুদের ঝুঁকিতে ফেলতে পারে—এমন এআই চ্যাটবটের বিরুদ্ধেও সরকার কঠোর ব্যবস্থা নিতে চায়। তবে সোশ্যাল মিডিয়া নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি “জটিল” এবং এ বিষয়ে বিভিন্ন দিক বিবেচনা করতে হবে। শিশু সুরক্ষা সংস্থা NSPCC-এর মতো সংগঠনগুলোর উদ্বেগের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিষেধাজ্ঞার সম্ভাবনাকেও বিবেচনায় রাখতে হবে। তবে আমরা তিন মাসের পরামর্শ প্রক্রিয়ায় যে প্রমাণ ও মতামত পাওয়া যাবে, তা গভীরভাবে পর্যালোচনা করব।”
স্টারমার জানান, এ বিষয়ে দুই পক্ষেরই জোরালো যুক্তি রয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, ১৬ বছরের নিচের সবাইকে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়া উচিত। কিন্তু NSPCC সতর্ক করেছে, এতে শিশুরা আরও অন্ধকার ও ঝুঁকিপূর্ণ অনলাইন প্ল্যাটফর্মে চলে যেতে পারে।
অন্যদিকে, ১৫ ও ১৬ বছর বয়সী কিছু তরুণ তাকে বলেছেন, তারা সংবাদপত্র পড়েন না; বরং সোশ্যাল মিডিয়া থেকেই খবর সংগ্রহ করেন। ফলে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা দিলে তারা সংবাদপ্রাপ্তি থেকেও বঞ্চিত হতে পারেন। “সব দিক বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে,” বলেন স্টারমার।
ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে, চলমান পরামর্শ প্রক্রিয়া শেষে যে সুপারিশ আসবে, তা দ্রুত কার্যকর করতে সরকার ইতোমধ্যে পার্লামেন্টে থাকা দুটি বিলে সংশোধনী আনার পরিকল্পনা করেছে—একটি শিশু কল্যাণ ও স্কুলসংক্রান্ত বিল, অন্যটি অপরাধ ও পুলিশিং বিল। সংশোধনীর মাধ্যমে মন্ত্রীদের প্রয়োজনীয় ক্ষমতা দেওয়া হবে, যাতে দ্রুত নীতি বাস্তবায়ন করা যায়।
স্টারমার বলেন, “আমরা এমন ক্ষমতা নিয়েছি যাতে মাসের মধ্যে পদক্ষেপ নেওয়া যায়, বছরের পর বছর অপেক্ষা না করতে হয়।” তিনি আরও বলেন, শুধু বয়সসীমা নয়, বরং এমন ডিভাইস ও অ্যাপ নিয়েও ব্যবস্থা নিতে হবে, যেগুলো ‘অটো-স্ক্রলিং’-এর মাধ্যমে শিশুদের দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে আটকে রাখে।
প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, দেশের প্রায় সব অভিভাবকই বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। “বর্তমান অবস্থা গ্রহণযোগ্য নয়। কেউ বলতে পারে না যে সব কিছু যেমন চলছে তেমনই চলতে দেওয়া উচিত। এটি শিশুদের যথেষ্ট সুরক্ষা দিচ্ছে না, এবং আমরা পদক্ষেপ নেব,” তিনি বলেন।
ডাউনিং স্ট্রিট আরও জানায়, নীতির বিস্তারিত চূড়ান্ত হলে তা কার্যকর করতে উভয় কক্ষের অনুমোদন লাগবে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য বিজ্ঞান, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।