তথ্যনির্ভর ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের জন্য—ভয়েস অব পিপল

বাজেটের আগে চাপে ব্রিটেন, মূল্যস্ফীতি ও করনীতি নিয়ে উদ্বেগ

বাজেটের আগে চাপে ব্রিটেন, মূল্যস্ফীতি ও করনীতি নিয়ে উদ্বেগ

ভয়েস অব পিপল | ১৮ অক্টোবর ।

বিশেষ প্রতিবেদন

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির উচ্চমূল্য ও সরকারি ঋণের সুদের চাপে আসন্ন বাজেট সামনে রেখে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছে ব্রিটিশ সরকার। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, জনসেবায় অর্থায়ন এবং সরকারি আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ওপর করের বোঝা না বাড়ানোর চ্যালেঞ্জও রয়েছে সরকারের সামনে।

আগামী ২৮ অক্টোবরের বাজেটকে ঘিরে নতুন কর আরোপ, বিদ্যমান করব্যবস্থার সংস্কার এবং সরকারি ব্যয় পুনর্বিন্যাস নিয়ে আলোচনা জোরালো হয়েছে। তবে আলোচনায় থাকা প্রস্তাবগুলোর সবই সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।

মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির খরচ বাড়ছে

ব্রিটিশ পরিসংখ্যান সংস্থা ওএনএসের সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্টে দেশটির ভোক্তা মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। জুলাইয়ে এ হার ছিল ২ দশমিক ৯ শতাংশ।

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ বাড়িয়েছে। আগস্টে পেট্রলের গড় দাম প্রতি লিটারে ১৬১ দশমিক ৩ পেন্স এবং ডিজেলের দাম ১৮১ দশমিক ৮ পেন্সে পৌঁছায়।

জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে খাদ্যসহ অন্যান্য পণ্য ও সেবার দামেও প্রভাব পড়তে পারে। তবে সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির তথ্য ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি; তা ২১ অক্টোবর প্রকাশের কথা।

সুদের হার নিয়ে অনিশ্চয়তা

ব্যাংক অব ইংল্যান্ড সেপ্টেম্বরে মূল সুদের হার ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখে। কমিটির নয় সদস্যের মধ্যে ছয়জন এ সিদ্ধান্তের পক্ষে ছিলেন; তিনজন হার বাড়িয়ে ৪ শতাংশ করার পক্ষে ভোট দেন।

পরবর্তী সুদের হার নির্ধারণের বৈঠক ৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। মূল্যস্ফীতি বাড়লে সুদের হার বৃদ্ধির চাপ তৈরি হতে পারে। এতে বাড়ির ঋণ ও ব্যবসায়িক ঋণের খরচ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে সুদের হার বাড়ানোর কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো ঘোষণা করা হয়নি।

করনীতি নিয়ে আইএমএফের পরামর্শ

১৬ অক্টোবর প্রকাশিত রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আসন্ন বাজেটে ব্যাংক ও শ্রমের ওপর কর বাড়ানোর পরিবর্তে সম্পত্তি কর সংস্কার, ভ্যাটের আওতা সম্প্রসারণ এবং সরকারি ব্যয় আরও কার্যকরভাবে পরিচালনার পরামর্শ দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।

অতিরিক্ত করের পরিবর্তে করব্যবস্থার কার্যকারিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি। তবে এসব পরামর্শ সরকারের জন্য বাধ্যতামূলক নয়।

কর বাড়ানো হলে সরকারি আয় বাড়তে পারে, কিন্তু এর প্রভাব ব্যবসা, বিনিয়োগ ও সাধারণ মানুষের ব্যয়ের ওপর পড়তে পারে। অন্যদিকে, সরকারি ব্যয় কমালে স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক নিরাপত্তার মতো খাতগুলোও প্রভাবিত হতে পারে।

সরকারি ঋণের ব্যয়ও বড় চ্যালেঞ্জ

সরকারি বন্ডের সুদের হার বাড়লে ঋণ নেওয়া ও পুরোনো ঋণ পুনঃঅর্থায়নের ব্যয় বাড়ে। ফলে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, পরিবহন ও সামাজিক নিরাপত্তায় অর্থ ব্যয়ের সুযোগ সীমিত হতে পারে।

রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সরকারের আর্থিক নিয়ম মেনে চলার অতিরিক্ত সুযোগ বা ফিসকাল হেডরুম কমে এসেছে। বিভিন্ন অর্থনৈতিক হিসাব অনুযায়ী, এই ব্যবধান প্রায় ৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন থেকে ১৬ বিলিয়ন পাউন্ডের মধ্যে থাকতে পারে। এটি একটি আনুমানিক হিসাব, সরকারের চূড়ান্ত ব্যয়ের পরিমাণ নয়।

সাধারণ মানুষের নজর বাজেটে

আসন্ন বাজেটে আয়কর, জাতীয় বিমা, সম্পত্তি কর, ভ্যাট, পেনশন ও কল্যাণভাতায় কী পরিবর্তন আসে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ রয়েছে। বিশেষ করে বাড়ির ঋণগ্রহীতা, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবার এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বাজেটের সিদ্ধান্তে প্রভাবিত হতে পারেন।

তবে নতুন কর আরোপ, করছাড় কিংবা অতিরিক্ত সরকারি সহায়তার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি।

আগামী ২৮ অক্টোবরের বাজেটে সরকারের সামনে মূল চ্যালেঞ্জ হবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, সরকারি ঋণের ব্যয় সামলানো এবং জনসেবায় অর্থায়নের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা।

বাজেটের সাফল্য শুধু সরকারি আয়-ব্যয়ের হিসাব দিয়ে নয়, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়, কর্মসংস্থান ও সরকারি সেবায় বাস্তব পরিবর্তনের মাধ্যমেও মূল্যায়ন করতে হবে।