তথ্যনির্ভর ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের জন্য—ভয়েস অব পিপল

করনীতির চাপে ব্রিটেন ছাড়ার চিন্তায় এক-তৃতীয়াংশ ধনী

করনীতির চাপে ব্রিটেন ছাড়ার চিন্তায় এক-তৃতীয়াংশ ধনী

ভয়েস অব পিপল, ১৮ অক্টোবর:  করনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা ও অর্থনীতির ওপর আস্থা কমে যাওয়ায় যুক্তরাজ্য ছেড়ে স্থায়ীভাবে অন্য দেশে বসতি গড়ার কথা ভাবছেন দেশটির ধনীদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান সল্টাসের সর্বশেষ ওয়েলথ ইনডেক্স জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।

জরিপ অনুযায়ী, এক বছর আগে যুক্তরাজ্য ছাড়ার কথা বিবেচনা করছিলেন ধনী উত্তরদাতাদের ২৫ শতাংশ। বর্তমানে এ হার বেড়ে ৩০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবে তাঁদের সবাই দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন না। ৮ শতাংশ আগামী ১২ মাসের মধ্যে স্থায়ীভাবে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা যাচাই করছেন, আর ২২ শতাংশ ভবিষ্যতে দেশ ছাড়ার কথা বিবেচনা করতে পারেন। অন্যদিকে, ৭০ শতাংশের আপাতত যুক্তরাজ্য ছাড়ার পরিকল্পনা নেই।

সল্টাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি নিয়ে ধনীদের আস্থা গত এক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এক বছর আগে অর্থনীতির ওপর আস্থা প্রকাশ করেছিলেন জরিপে অংশ নেওয়া ৬৬ শতাংশ। বর্তমানে তা নেমে এসেছে ৫৬ শতাংশে। একই সঙ্গে ৪০ শতাংশ উত্তরদাতা করের সম্ভাব্য পরিবর্তনকে তাঁদের সম্পদের অন্যতম প্রধান ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন। মূল্যস্ফীতিকেও সম্পদের জন্য বড় ঝুঁকি মনে করছেন ৪৫ শতাংশ।

জরিপটি পরিচালনা করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেনসাসওয়াইড। ২০২৬ সালের ৪ থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত পরিচালিত এ গবেষণায় অংশ নেন যুক্তরাজ্যের ২ হাজার ১ জন প্রাপ্তবয়স্ক, যাঁদের প্রত্যেকের বিনিয়োগযোগ্য সম্পদের পরিমাণ অন্তত ২ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড। নিজস্ব বসতবাড়ির মূল্য এ সম্পদের হিসাবের অন্তর্ভুক্ত নয়।

ধনীদের উদ্বেগের অন্যতম কারণ করব্যবস্থার পরিবর্তন। ২০২৫ সালের ৬ এপ্রিল থেকে যুক্তরাজ্যে পুরোনো ‘নন-ডমিসাইল’ করসুবিধা বাতিল করা হয়। আগে নির্দিষ্ট শর্তে বিদেশে অর্জিত আয় যুক্তরাজ্যে না আনলে সেই আয়ের ওপর দেশটিতে কর না দেওয়ার সুযোগ ছিল। নতুন ব্যবস্থায় যুক্তরাজ্যের কর-নিবাসীদের সাধারণভাবে বিদেশি আয় ও মূলধনী মুনাফার ওপরও কর দিতে হয়। তবে অন্তত ১০ বছর যুক্তরাজ্যের কর-নিবাসী ছিলেন না—এমন যোগ্য নতুন বাসিন্দারা প্রথম চার বছরের জন্য নির্দিষ্ট বিদেশি আয় ও মুনাফায় করছাড় দাবি করতে পারেন।

করনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা, উত্তরাধিকার কর এবং ভবিষ্যতে সম্পদের ওপর বাড়তি কর আরোপের আশঙ্কাও ধনীদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে। তাঁদের একটি অংশ বিদেশে সম্পদ পুনর্বিন্যাস কিংবা কর-নিবাস পরিবর্তনের সম্ভাবনা যাচাই করছেন।

বিদেশে যাওয়ার সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কানাডা, স্পেন, সিঙ্গাপুর ও সুইজারল্যান্ডের মতো দেশের নাম উঠে এসেছে। এর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত ব্যক্তিগত আয়ের ওপর সাধারণ ফেডারেল আয়কর না থাকা, আন্তর্জাতিক ব্যবসার সুযোগ এবং দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের বিভিন্ন ব্যবস্থার কারণে আকর্ষণীয়। তবে দেশভেদে কর, বসবাসের অনুমতি ও সম্পদের ওপর প্রযোজ্য নিয়ম আলাদা।

ধনীদের দেশত্যাগের প্রবণতা যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি ও সরকারি রাজস্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তৈরি করছে। উচ্চ সম্পদশালীরা দেশ ছাড়লে আয়কর, বিনিয়োগ, ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থানে প্রভাব পড়তে পারে। তবে জরিপে দেশ ছাড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করা মানেই বাস্তবে দেশত্যাগ নয়; চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পরিবার, ব্যবসা, জীবনযাত্রা, স্বাস্থ্যসেবা ও আইনি বাধ্যবাধকতাও ভূমিকা রাখে।

অর্থনীতিবিদদের কাছে তাই মূল প্রশ্ন শুধু ধনীদের ধরে রাখা নয়, বরং এমন করব্যবস্থা গড়ে তোলা, যা রাজস্ব আদায়ে ন্যায্যতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিনিয়োগ, উদ্যোক্তা কার্যক্রম ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকেও উৎসাহিত করে।