মার্চ ২০২৬ থেকে ইংল্যান্ডের প্রতিটি ঘরে বাধ্যতামূলক ‘চার বিন’ ব্যবস্থা
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ১৯ ফেব্রুয়ারি: ইংল্যান্ডে আবর্জনা ও রিসাইক্লিং ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসছে। আগামী মার্চ ২০২৬ থেকে প্রতিটি বাড়িতে ন্যূনতম চারটি আলাদা বিন (ডাস্টবিন) রাখা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। সরকার জানিয়েছে, নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বাসিন্দাদের রিসাইক্লিং অভ্যাস বদলাতে হবে।
এই উদ্যোগের নাম Simpler Recycling। এর লক্ষ্য হলো ইংল্যান্ডজুড়ে বর্জ্য সংগ্রহ পদ্ধতিকে একক মানদণ্ডে আনা এবং তথাকথিত ‘পোস্টকোড লটারি’ দূর করা। এতদিন বিভিন্ন কাউন্সিল ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে বর্জ্য সংগ্রহ করত—কোথাও প্লাস্টিক নেওয়া হতো, কোথাও হতো না—ফলে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হতেন। নতুন নিয়মে সেই বৈচিত্র্য কমিয়ে একটি অভিন্ন কাঠামো গড়ে তোলা হবে।
চার ধরনের বিন বাধ্যতামূলক
নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী অধিকাংশ বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চার ধরনের আলাদা বর্জ্যপাত্র রাখতে হবে—
১.রেসিডুয়াল (অ-রিসাইক্লেবল) বর্জ্য
২.খাদ্য বর্জ্য (প্রয়োজনে বাগানের বর্জ্যের সঙ্গে মিশিয়ে)
৩.কাগজ ও কার্ডবোর্ড
৪.অন্যান্য শুকনো রিসাইক্লেবল উপকরণ (প্লাস্টিক, ধাতু ও কাঁচ)
ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্টসহ সব ধরনের বাসাবাড়ির ক্ষেত্রেই ৩১ মার্চ ২০২৬-এর মধ্যে এই চার ধরনের বর্জ্য আলাদা করে সংগ্রহ নিশ্চিত করতে হবে।
এছাড়া প্লাস্টিক ফিল্ম প্যাকেজিং—যেমন চিপসের প্যাকেট—এবং প্লাস্টিক ব্যাগ ৩১ মার্চ ২০২৭ থেকে প্লাস্টিক রিসাইক্লিংয়ের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
খাদ্য বর্জ্য সংগ্রহে আলাদা গুরুত্ব
গত বছর পার্লামেন্টারি আন্ডার-সেক্রেটারি ফর নেচার মেরি ক্রেগ জানান, প্রতিটি স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে ৩১ মার্চ ২০২৬-এর মধ্যে খাদ্য বর্জ্য আলাদাভাবে সংগ্রহের ব্যবস্থা করতে হবে। তবে ৩১টি স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে বিশেষ ‘ট্রানজিশনাল অ্যারেঞ্জমেন্ট’ দেওয়া হয়েছে, কারণ তাদের দীর্ঘমেয়াদি বর্জ্য নিষ্পত্তি চুক্তি থাকায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আলাদা খাদ্য বর্জ্য সংগ্রহ চালু করা কঠিন।
এই রূপান্তর প্রক্রিয়ায় স্থানীয় কাউন্সিলগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে Department for Environment, Food and Rural Affairs (ডেফরা)। যেখানে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি বাস্তব বাধা তৈরি করেছে, সেখানে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
কী নেওয়া হবে, কী হবে না
চলতি বছরের শুরুতে ডেফরা স্পষ্ট করে জানিয়েছে—কিছু নির্দিষ্ট সামগ্রী নতুন ব্যবস্থায় সংগ্রহ করা কাউন্সিলগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক নয়। বিষয়গুলো পাঁচটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। ফলে কোন বর্জ্য কোন বিনে যাবে, আর কোনটি যাবে না—তা নিয়ে জনগণকে সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কেন এই পরিবর্তন?
সরকারের দাবি, একীভূত এই পদ্ধতি পরিবেশ সুরক্ষা জোরদার করবে, রিসাইক্লিং হার বাড়াবে এবং দীর্ঘমেয়াদে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সহজ করবে। তবে বাস্তবে অনেক পরিবারকে নতুন বিনের জন্য জায়গা বের করা, আলাদা করে বর্জ্য সংরক্ষণ করা এবং নিয়ম মেনে চলার প্রস্তুতি নিতে হবে।
ইংল্যান্ডে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্যও এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো প্রস্তুতি না নিলে জরিমানা বা সেবা বিঘ্নের ঝুঁকি থাকতে পারে। তাই স্থানীয় কাউন্সিলের নির্দেশনা নিয়মিত অনুসরণ করা এবং নতুন নিয়ম সম্পর্কে আগেভাগে পরিষ্কার ধারণা নেওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।