‘বিয়ে কারো পৌষ মাস, কারো বা সর্বনাশ’ !

‘বিয়ে কারো পৌষ মাস, কারো বা সর্বনাশ’ !

বাংলাদেশ প্রতিনিধি, ১৯ ফেব্রুয়ারি: লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার উত্তর জাওরানি গ্রামে বুধবার দুপুরে যা ঘটেছে, তা দেখে অনেকেই প্রথমে ভেবেছিলেন—আবার বুঝি কারও বিয়ে! বাড়ির সামনে সামিয়ানা, রঙিন গেট, প্যান্ডেল, অতিথিদের ভিড়—সব মিলিয়ে একেবারে বিয়েবাড়ির আমেজ।

কিন্তু একটু পরই পরিষ্কার হলো—এটি বিয়ের আয়োজন নয়, বরং বিয়ে না করার আয়োজন

৩০ বছর বয়সী নুরুজ্জামান ওরফে আনোয়ার তিন দফা দাম্পত্য ভাঙনের পর ব্যতিক্রমী এক ঘোষণা দিয়েছেন—জীবনে আর কখনও বিয়ে করবেন না। আর সেই ঘোষণাকে স্মরণীয় করে রাখতে আয়োজন করলেন ‘দুধ গোসল’ অনুষ্ঠান!

গায়ে হলুদ, দুধ গোসল—কিন্তু বিয়ে নয়

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নিজ বাড়িতে প্রথমে তাকে গায়ে হলুদ মাখানো হয়। এরপর দুধ দিয়ে গোসল করানো হয়—যেন বিয়ের আগের প্রস্তুতি। তবে কনে নেই, কাজী নেই—আছে কেবল শপথের মঞ্চ।

গোসল শেষে উপস্থিত অতিথি ও এলাকাবাসীর সামনে দাঁড়িয়ে আনোয়ার ঘোষণা দেন—“আজ থেকে জীবনে আর বিয়ে করব না।” সঙ্গে তওবা করে জানান, নারীদের প্রতি আর আসক্ত হবেন না।

বিয়ে না করলেও আপ্যায়নে কোনো কমতি ছিল না। তিনটি ছাগল কোরবানি দিয়ে অতিথিদের খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা হয়। ফলে ‘চিরকুমার ঘোষণার দাওয়াত’ এলাকায় বেশ সাড়া ফেলেছে।

তিন বিয়ে, তিন ভাঙন

আনোয়ারের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে গার্মেন্টসে কাজ করার সময় গোপালগঞ্জের এক তরুণীর সঙ্গে পরিচয় থেকে প্রেম এবং পরে বিয়ে। কিন্তু ২০১৯ সালে নানা অজুহাতে প্রথম স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যান।

এরপর ভুল নম্বরে ফোনকল—সেখান থেকে রংপুরের এক তরুণীর সঙ্গে পরিচয় ও দ্বিতীয় বিয়ে। সেই সংসারও টেকেনি। সর্বশেষ তৃতীয় বিয়েও ভাঙনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়; স্ত্রী বাবার বাড়িতে চলে যান।

বারবার সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার অভিজ্ঞতায় হতাশ হয়ে তিনি এবার ভিন্ন পথ বেছে নিলেন—বিয়ে বর্জনের।

শুধু বিয়ে নয়, বদলাবেন জীবনও

আনোয়ার আরও জানিয়েছেন, তিনি আগে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এ দিন থেকে সেই অবৈধ কাজও ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তার ভাষায়, “নতুন জীবন শুরু করব—বিয়ে নয়, সৎ পথে চলব।”

এলাকায় চাঞ্চল্য

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ বলছেন, “এত আয়োজন করে বিয়ে না করার ঘোষণাও করা যায়!” আবার কেউ মজা করে মন্তব্য করছেন, “কয়দিন পর আবার গেট টাঙানো না হয়!”

তবে সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি হাস্যরসের হলেও এর পেছনে রয়েছে ব্যক্তিগত হতাশা ও সম্পর্ক ভাঙনের মানসিক চাপ। আনোয়ারের আয়োজন যেমন ব্যতিক্রমী, তেমনি তা সমাজে বিয়ে ও সম্পর্ক নিয়ে প্রচলিত ধারণাকেও নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করছে।

গ্রামের মানুষ আপাতত বলছেন—“দেখা যাক, দুধ গোসলের শপথ কতদিন টেকে!”