সাতগ্রাম ইউনিয়নে ১ নারী ধরতে গিয়ে ৬ পুলিশ আটক !

সাতগ্রাম ইউনিয়নে ১ নারী ধরতে গিয়ে ৬ পুলিশ আটক !

বাংলাদেশ প্রতিনিধি, ১৯ ফেব্রুয়ারি: নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলার সাতগ্রাম ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামে ওয়ারেন্টভুক্ত এক নারী আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে উল্টো বিপাকে পড়তে হয়েছে পুলিশকে। একজনকে ধরতে গিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকলেন ৬ পুলিশ সদস্য—ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, সিআর মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি আসমা বেগম (৪৫), স্বামী জুলহাস মিয়া, তাকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে অভিযান চালায় আড়াইহাজার থানা পুলিশ। রাতের নীরবতা ভেঙে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন একত্রিত হন।

প্রথমে বাকবিতণ্ডা, পরে ধস্তাধস্তি—একপর্যায়ে পরিস্থিতি রূপ নেয় হাতাহাতিতে। এতে এসআই অজিত, এএসআই আরিফ, এএসআই ফারুক, এএসআই শরীফ, এএসআই সাইফুল ও এএসআই নিজাম আহত হন। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

পুলিশের দাবি, আসামি আসমাকে আটকের পর তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। খবর ছড়িয়ে পড়তেই আত্মীয়-স্বজন ও আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে পুলিশ সদস্যদের ঘেরাও করে রাখে। প্রায় এক ঘণ্টা তারা অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সদস্যদের উদ্ধার করে।

তবে ঘটনার নাটকীয় মোড় আসে তখনই—পুলিশের অভিযোগ, একপর্যায়ে আসামি আসমাকে তার স্বজনরা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। অন্যদিকে পরিবারের দাবি, তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে দ্রুত মাধবদীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন জানান, সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে ঘটনাস্থল থেকে তিন নারীসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

স্থানীয়দের মতে, গভীর রাতে অভিযানের ধরন ও উত্তেজনা পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার করা তাদের নিয়মিত দায়িত্বের অংশ।

একজনকে ধরতে গিয়ে ছয়জন পুলিশ সদস্যের অবরুদ্ধ হয়ে পড়ার এই ঘটনা এখন সাতগ্রাম ইউনিয়নে ‘টক অব দ্য এরিয়া’। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই তাকিয়ে স্থানীয়রা।