‘‘দেশ থেকে দেশান্তরে, ভয়েস অব পিপল সবার ঘরে’’

ব্রিটেনের আজকের ৫টি অতি গুরুত্বপূর্ণ খবর একসাথে

ব্রিটেনের আজকের ৫টি অতি গুরুত্বপূর্ণ খবর একসাথে

১৯ অক্টোবর ২০২৬ | ভয়েস অব পিপল, লন্ডন

ব্রিটেনের রাজনীতি, অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, প্রযুক্তি ও পরিবহন খাতের গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি খবর বাছাই করে ‘ভয়েস অব পিপল’ এর পাঠকদের জন্য একসঙ্গে তুলে ধরা হলো। প্রতিটি খবরের সঙ্গে রয়েছে সংশ্লিষ্ট ঘটনার প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য।

৩৪০ মিলিয়ন পাউন্ডের ক্ষতিপূরণ মামলা থেকে রেহাই পেল উবার

এআই প্রযুক্তিতে পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে ব্রিটেন

বিদেশি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরতা কমাতে বিনিয়োগের আহ্বান

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি উদ্ভাবনে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ব্রিটেন নিজস্ব প্রযুক্তি নির্মাতার পরিবর্তে বিদেশি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বড় গ্রাহকে পরিণত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা পরিষদ।

কাউন্সিল ফর সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির মতে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কয়েকটি বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়লে ব্রিটেনের প্রযুক্তিগত স্বাধীনতা, অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপদেষ্টারা এআই নীতির সমন্বয়ের জন্য একজন দায়িত্বশীল প্রধান কর্মকর্তা নিয়োগ, কম্পিউটিং অবকাঠামোয় বিনিয়োগ, দক্ষ জনবল তৈরি এবং স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে এআই প্রযুক্তি পরীক্ষার সুপারিশ করেছেন।

পাশাপাশি গবেষক, নতুন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবহারের জন্য জনস্বার্থে পরিচালিত একটি ব্রিটিশ এআই মডেল তৈরির প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বিশ্বজুড়ে দ্রুত বাড়ছে। এই প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়লে ব্রিটেনকে ভবিষ্যতে প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে সুপারিশগুলোর বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

২৮ অক্টোবরের বাজেট ঘিরে বাড়ছে অর্থনৈতিক উদ্বেগ

মূল্যস্ফীতি, সরকারি ঋণ ও ব্যবসার ব্যয় নিয়ে চাপে সরকার

ব্রিটেনের আসন্ন বাজেটকে কেন্দ্র করে অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। আগামী ২৮ অক্টোবর চ্যান্সেলর জন হিলির বাজেট উপস্থাপনের কথা রয়েছে। তার আগে মূল্যস্ফীতি, সরকারি ঋণ এবং ব্যবসায়িক ব্যয়ের চাপ নিয়ে আলোচনা জোরালো হয়েছে।

ব্যবসায়ী নেতারা সরকারকে এমন বাজেট প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ছোট ব্যবসার সুরক্ষা, শিল্পের জ্বালানি ব্যয় কমানো এবং বিনিয়োগ উৎসাহিত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

তরুণদের নিয়োগের ব্যয় কমানো, ছোট দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য কর-সুবিধা, উৎপাদনশিল্পের বিদ্যুৎ খরচ কমানো এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য করনীতিতে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।

অন্যদিকে, মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা এবং সরকারি ঋণের চাপ বাজেট প্রণয়নে সরকারের জন্য কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। অতিরিক্ত কর আরোপ ব্যবসার ওপর চাপ বাড়াতে পারে, আবার সরকারি আয় বাড়ানোর বিকল্প সীমিত হলে জনসেবার ব্যয় সামলানোও কঠিন হতে পারে।

নতুন বাজেটের সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়, ব্যবসার ভবিষ্যৎ, কর্মসংস্থান এবং বিনিয়োগের পরিবেশে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। তাই আগামী ২৮ অক্টোবরের বাজেট ব্রিটেনের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ইংল্যান্ডে ২০টি পর্যন্ত প্রসূতি বিভাগ বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা

নিরাপদ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতালকেন্দ্রিক সেবা পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব

ইংল্যান্ডে সর্বোচ্চ ২০টি হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগ বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে এনএইচএস-সংশ্লিষ্ট এক শীর্ষ কর্মকর্তা। হাসপাতালগুলোর চিকিৎসাসেবা পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে কিছু প্রসূতি বিভাগ একীভূত করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

এনএইচএস অ্যালায়েন্সের অ্যাকিউট কেয়ারের একজন পরিচালক মনে করেন, নিরাপদ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে কিছু ক্ষেত্রে প্রসূতি বিভাগগুলোকে বৃহত্তর হাসপাতালকেন্দ্রিক ব্যবস্থার আওতায় আনা অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে।

তবে এ ধরনের পরিবর্তন কার্যকর হলে গ্রামীণ ও উপকূলীয় এলাকার অন্তঃসত্ত্বা নারীদের সন্তান জন্মদানের জন্য আরও দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হতে পারে। জরুরি প্রসবকালীন পরিস্থিতিতে হাসপাতালে পৌঁছাতে দেরি হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হতে পারে।

প্রসূতি বিভাগ বন্ধ বা একীভূত করার পক্ষে যুক্তি হলো, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বড় হাসপাতালগুলোতে কেন্দ্রীভূত করলে চিকিৎসার নিরাপত্তা বাড়তে পারে। কিন্তু এর বিপরীতে স্থানীয় পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য রাখার প্রশ্নও রয়েছে।

এখন পর্যন্ত ২০টি প্রসূতি বিভাগ বন্ধের আশঙ্কা একটি সতর্কবার্তা; একে সব হাসপাতাল বন্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা উচিত নয়। প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে কোন কোন এলাকার সেবা পরিবর্তিত হবে, তা সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

ব্রিটেনের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় জনবল, অর্থায়ন এবং হাসপাতালের সক্ষমতা নিয়ে চলমান চাপের মধ্যে বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।