ব্রিটেন সংবাদ
অভিবাসন নীতিতেই বড় পরীক্ষা, অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে প্রধানমন্ত্রী বার্নহামকে
লন্ডন, ২৩ আগস্ট: প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসের মধ্যেই অ্যান্ডি বার্নহামের সামনে বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা হয়ে উঠেছে অভিবাসন ইস্যু। শুরুতে জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে সক্ষম হলেও শরৎকালজুড়ে তাঁর সরকারের জন্য অভিবাসন নীতি হবে সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয়গুলোর একটি বলে মনে করছে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।
বার্নহাম ২০ জুলাই ২০২৬ যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন।
প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর অর্থনীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় ও আঞ্চলিক উন্নয়ন নিয়ে একাধিক উদ্যোগ ঘোষণা করেছেন তিনি। তবে অভিবাসন প্রশ্নে তাঁর সরকারকে এখন আরও পরিষ্কার অবস্থান নিতে হবে—এমনটাই উঠে এসেছে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস-এর সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে।
দেশটিতে অভিবাসন নিয়ে জনমত এখনও গভীরভাবে বিভক্ত। অভিবাসনের হার কমলেও বিষয়টি নিয়ে মানুষের উদ্বেগ কমেনি। সংবাদপত্রটির বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে, ৮৬ শতাংশ ব্রিটিশ মনে করেন অভিবাসী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে কোনো না কোনো ধরনের উত্তেজনা রয়েছে। ফলে শুধু অভিবাসন কমানোর প্রতিশ্রুতি নয়, পুরো ব্যবস্থাকে ন্যায়সংগত ও নিয়ন্ত্রিত হিসেবে জনগণের কাছে প্রতিষ্ঠা করাই বার্নহামের বড় চ্যালেঞ্জ।
এই পরিস্থিতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের কঠোর অভিবাসন প্রস্তাব নিয়েও প্রধানমন্ত্রীকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে অভিবাসীদের স্থায়ীভাবে বসবাসের অধিকার পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সময় দ্বিগুণ করার পরিকল্পনাও রয়েছে। একই সঙ্গে কল্যাণ সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যে একজন অভিবাসীর অবদানকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার একটি মডেল নিয়েও আলোচনা চলছে।
তবে লেবার পার্টির ভেতরেই এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে অস্বস্তি রয়েছে। দলের উদারপন্থী অংশ অভিবাসীদের অধিকার সীমিত করার বিরোধিতা করতে পারে। আবার অভিবাসন নিয়ে দীর্ঘদিনের অসন্তোষকে উপেক্ষা করাও বার্নহামের জন্য রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে বার্নহাম বলেছিলেন, যুক্তরাজ্যে নেট অভিবাসনের সংখ্যা আরও কমানো প্রয়োজন। তবে তাঁর সরকার ঠিক কোন পথে যাবে, সে বিষয়ে সব বিস্তারিত তখনও স্পষ্ট ছিল না।
ফলে সামনে বার্নহামের জন্য মূল প্রশ্ন শুধু অভিবাসন কমানো নয়; বরং কীভাবে এমন একটি অভিবাসন ব্যবস্থা তৈরি করা যায়, যেটিকে একই সঙ্গে কঠোর, নিয়ন্ত্রিত এবং ন্যায্য বলে জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য করা সম্ভব।
এই প্রশ্নের উত্তরই শেষ পর্যন্ত বার্নহামের নেতৃত্বের বিশ্বাসযোগ্যতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।