বাংলাদেশ সংবাদ

দেশে কী চলছে স্বরাজ? গুদাম ভেঙে সার লুটতরাজ!

দেশে কী চলছে স্বরাজ? গুদাম ভেঙে সার লুটতরাজ!

ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ২৩ আগস্ট: 

কুড়িগ্রামে ক্ষুব্ধ কৃষকের গুদাম ভেঙে সার নিয়ে যাওয়া, রাজশাহীতে ডিলারের দোকানে ঘুরেও সার পাচ্ছেন না কৃষকেরা—আমন মৌসুমে দেশের সারের বাজারে কী হচ্ছে?

দেশে কী চলছে স্বরাজ? কৃষকের ঘরে ফসল, মাঠে আমনের মৌসুম—অথচ প্রয়োজনীয় সার পেতে কৃষককে ছুটতে হচ্ছে এক ডিলার থেকে আরেক ডিলারের কাছে। কোথাও দোকান বন্ধ, কোথাও অতিরিক্ত দামের অভিযোগ, কোথাও অবৈধ মজুতের সন্ধান। আর কুড়িগ্রামে তো সার না পাওয়ার ক্ষোভে ডিলার পয়েন্টের বেড়া ভেঙে সার নিয়ে গেছেন কৃষকেরা!

রোববার কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নে বিসিআইসি অনুমোদিত একটি সার ডিলার পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, ক্ষুব্ধ লোকজন প্রায় ১৯৭ বস্তা ইউরিয়া ও এমওপি সার নিয়ে যান।

কৃষকদের অভিযোগ, কয়েক দিন ধরে তাঁরা সার পাচ্ছিলেন না। ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দকৃত সার কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিতরণ না করে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগও ওঠে।

পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অনেকেই সার ফেরত দিলেও সব সার উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, লুট হওয়া সারের একটি অংশ ফেরত পাওয়া গেছে এবং বাকিগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

সরকারি দাবি এক, মাঠের চিত্র আরেক

স্থানীয় কৃষি প্রশাসনের দাবি, ওই এলাকায় সারের কোনো সংকট নেই এবং অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগও সঠিক নয়। কিন্তু ঘটনার পর উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে কৃষকদের অভিযোগের ভিন্ন চিত্র পাওয়া গেছে।

কৃষক ছাড়া খুচরা বিক্রেতাদের কাছে সার বিক্রির অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত একজন ডিলারকে জরিমানা করেছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, মাঠে যদি সংকটই না থাকে, তাহলে কৃষকদের এই ক্ষোভের কারণ কী?

রাজশাহীতে সার খুঁজতে কৃষকের দৌড়ঝাঁপ

একই দিনে রাজশাহীতেও সারের জন্য কৃষকদের দুর্ভোগের খবর পাওয়া গেছে। পবা উপজেলার আলীমগঞ্জ এলাকায় কৃষকেরা সার কিনতে গিয়ে ডিলারের বিক্রয়কেন্দ্র বন্ধ পান।

কেউ তিন দিন ধরে দোকানে ঘুরছেন, কেউ কয়েক বিঘা জমিতে এখনো সার দিতে পারেননি। এক ডিলারের কাছে না পেয়ে অন্য ডিলারের কাছে ছুটছেন কৃষকেরা। শেষ পর্যন্ত কয়েকজন কৃষক অন্য একটি ডিলারের কাছ থেকে অল্প পরিমাণ ইউরিয়া সার সংগ্রহ করতে পেরেছেন।

রাজশাহীতে এর আগে সার নিয়ে অনিয়ম ও অবৈধ মজুতের অভিযোগে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সার জব্দ করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ঘটনার পর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের একজন উপপরিচালককেও বদলি করা হয়েছে।

তাহলে দেশে কী চলছে স্বরাজ?

সরকারি হিসাবে সার আছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, সংকট নেই। কিন্তু কৃষক বলছেন, তাঁরা সার পাচ্ছেন না। কোথাও দোকান বন্ধ, কোথাও বেশি দাম, কোথাও মজুতের অভিযোগ। আর কোথাও ক্ষুব্ধ কৃষক সার নিতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত ডিলার পয়েন্টের বেড়া ভেঙে ফেলছেন।

এ এক অদ্ভুত বাস্তবতা—গুদামে সার আছে, কিন্তু কৃষকের হাতে নেই; বাজারে সার আছে, কিন্তু দামে আগুন; প্রশাসন বলছে সংকট নেই, অথচ কৃষক সার খুঁজে বেড়াচ্ছেন।

আমন মৌসুমে সময়মতো সার না পেলে ক্ষতি হবে কৃষকের, কমবে উৎপাদন, বাড়বে খাদ্যনিরাপত্তার ঝুঁকি। তাই শুধু লুট হওয়া সার উদ্ধার কিংবা একজন ডিলারকে জরিমানা করলেই প্রশ্নের শেষ হবে না।

মূল প্রশ্ন হলো—কৃষকের জন্য বরাদ্দ করা সার আসলে কৃষকের হাতেই পৌঁছাচ্ছে তো?

দেশে কী চলছে স্বরাজ? নাকি সারের বাজারেও চলছে যার জোর, তার রাজ—আর অসহায় কৃষকের ভাগ্যে শুধু অপেক্ষা, হয়রানি ও শেষ পর্যন্ত লুটতরাজ!