লন্ডন সংবাদ
ব্রিকলেনে ডেটা সেন্টার, আবাসন ও পরিবেশ নিয়ে বাড়ছে স্থানীয় ক্ষোভ
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ২৩ আগস্ট:
লন্ডনের ব্রিক লেন—বাংলাদেশি খাবার, ব্যবসা, সংস্কৃতি আর প্রবাসী বাঙালির দীর্ঘদিনের বসতির সঙ্গে যে নামটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত—সেই এলাকাতেই এবার ডেটা সেন্টার নির্মাণ নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
টাওয়ার হ্যামলেটসের ঐতিহাসিক ট্রুম্যান ব্রিউয়ারি এলাকায় প্রায় ৫০০ মিলিয়ন পাউন্ডের পুনর্গঠন প্রকল্পে ডেটা সেন্টার, অফিস, আবাসন, দোকান, রেস্তোরাঁ ও অন্যান্য বাণিজ্যিক স্থাপনা তৈরির পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে সরকার। স্থানীয় কাউন্সিল ও Save Brick Lane আন্দোলনের বিরোধিতা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় সরকার প্রকল্পটির অনুমোদন দিয়েছে।
বাংলাদেশি পাঠকদের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ আরও একটি কারণে। প্রস্তাবিত এলাকা Spitalfields and Banglatown-এর অংশ—যে এলাকায় কয়েক দশক ধরে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটির ব্যবসা, রেস্তোরাঁ ও সাংস্কৃতিক উপস্থিতি গড়ে উঠেছে। কাউন্সিলের নথিতেও ব্রিক লেনকে বাংলাদেশি রেস্তোরাঁসহ বৈচিত্র্যময় ব্যবসা ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাড়ির বদলে ডেটা সেন্টার কেন?
বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে জমির ব্যবহার। টাওয়ার হ্যামলেটসে আবাসনের চাহিদা দীর্ঘদিন ধরেই তীব্র। কিন্তু নতুন প্রকল্পে মোট আবাসিক ইউনিট রাখা হয়েছে মাত্র ৪৪টি, যার মধ্যে ছয়টি সামাজিক আবাসন হিসেবে নির্ধারিত। অন্যদিকে প্রকল্পের বড় অংশ অফিস ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য রাখা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রচারকর্মীদের প্রশ্ন—আবাসনের জন্য জমির সংকট থাকা অবস্থায় কেন এমন একটি জায়গায় বিদ্যুৎনির্ভর ডেটা সেন্টার তৈরি করা হবে?
প্রস্তাবিত ডেটা সেন্টারটির আয়তন প্রায় ৫,২০০ বর্গমিটার। পরিকল্পনা অনুযায়ী এটি মূলত লন্ডনের আর্থিক খাতের হাই-ফ্রিকোয়েন্সি ট্রেডিং বা অত্যন্ত দ্রুতগতির আর্থিক লেনদেনের প্রযুক্তিগত অবকাঠামো হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার কথা।
প্রকল্পটির সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদা প্রায় ৫.২ মেগাওয়াট হতে পারে। প্রচারকর্মীদের হিসাবে, এই পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রায় ১৫ হাজার বাড়ির ব্যবহারের সমপরিমাণ।
এ কারণেই স্থানীয়দের একাংশের আশঙ্কা, লন্ডনের আবাসন সংকটের মধ্যে বিদ্যুৎ ও জমির মূল্যবান সম্পদ এমন একটি প্রকল্পে ব্যবহার করা হচ্ছে, যার সরাসরি সুবিধা স্থানীয় বাসিন্দারা খুব কমই পাবেন।
ব্রিক লেনের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন
ডেটা সেন্টার নিয়ে আপত্তি শুধু বিদ্যুৎ বা আবাসন ঘিরে নয়। শব্দদূষণ, পরিবেশ এবং এলাকার ঐতিহাসিক চরিত্র নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।
Save Brick Lane আন্দোলন বলছে, এই উন্নয়ন স্থানীয় মানুষের প্রয়োজনের তুলনায় বাণিজ্যিক স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তাদের দাবি, ব্রিক লেনের জমি আবাসন ও স্থানীয় কমিউনিটির প্রয়োজন মেটাতে ব্যবহার করা উচিত।
বিশেষ করে ব্রিটিশ-বাংলাদেশিদের কাছে ব্রিক লেন কেবল একটি রাস্তা নয়। এটি পূর্ব লন্ডনে বাংলাদেশি অভিবাসীদের কয়েক প্রজন্মের সংগ্রাম, ব্যবসা, খাবার, সংস্কৃতি ও পরিচয়ের একটি দৃশ্যমান স্মারক।
তাই ডেটা সেন্টার নির্মাণের অনুমোদনকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে আবাসনের পাশাপাশি প্রশ্ন উঠছে—ব্রিক লেনের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক চরিত্র ভবিষ্যতে কতটা অক্ষত থাকবে?
সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রচারকর্মীরা আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছেন। ফলে ডেটা সেন্টারের অনুমোদন হলেও ব্রিক লেনের এই বিতর্ক এখানেই শেষ হচ্ছে না।