ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি

ইইউ সীমান্তে নতুন ডিজিটাল চেক: দীর্ঘ লাইন, ভিসা বিভ্রাটে বিপাকে ব্রিটিশ পর্যটক

ইইউ সীমান্তে নতুন ডিজিটাল চেক: দীর্ঘ লাইন, ভিসা বিভ্রাটে বিপাকে ব্রিটিশ পর্যটক

ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ২৩ আগস্ট:

ইউরোপে ছুটি কাটাতে যাওয়া ব্রিটিশ নাগরিকদের জন্য নতুন ঝামেলার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডিজিটাল এন্ট্রি/এক্সিট সিস্টেম (EES)। দীর্ঘ সারি, আঙুলের ছাপ শনাক্তে ব্যর্থতা, তথ্যভান্ডারে ভুল এবং ভিসা-সংক্রান্ত বিভ্রান্তিতে অনেক যাত্রী চরম ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন।

চলতি বছরের এপ্রিল থেকে পূর্ণমাত্রায় কার্যকর হওয়া এই ব্যবস্থায় শেনজেন অঞ্চলে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় ইইউ-বহির্ভূত নাগরিকদের পাসপোর্ট স্ক্যান, ছবি ও বায়োমেট্রিক তথ্য নিবন্ধন করা হচ্ছে। তবে বাস্তবে বিভিন্ন বিমানবন্দর ও সীমান্তে প্রযুক্তিগত ও ব্যবস্থাপনাগত সমস্যার অভিযোগ উঠেছে।

কয়েকজন ব্রিটিশ যাত্রী জানিয়েছেন, ইউরোপে প্রবেশের পর তাদের বের হওয়ার তথ্য সিস্টেমে সঠিকভাবে নথিভুক্ত হয়নি। এতে তারা ভবিষ্যতে শেনজেন অঞ্চলে প্রবেশে বাধার আশঙ্কা করছেন, কারণ EES মূলত ১৮০ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৯০ দিন অবস্থানের নিয়ম পর্যবেক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে।

জার্মানির মিউনিখে পড়াশোনা করা এক ব্রিটিশ শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, বৈধ দীর্ঘমেয়াদি স্টুডেন্ট ভিসা থাকা সত্ত্বেও তাকে বারবার EES লাইনে পাঠানো হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, কারা এই ব্যবস্থার আওতায় এবং কারা অব্যাহতি পাবেন—সে বিষয়ে বিমানবন্দরে যথেষ্ট স্পষ্ট নির্দেশনা নেই।

বয়স্ক ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী যাত্রীদের ক্ষেত্রেও সমস্যা বেশি দেখা যাচ্ছে। অনেকের আঙুলের ছাপ মেশিনে শনাক্ত না হওয়ায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে এবং পরে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে তথ্য নিবন্ধন করতে হচ্ছে।

যুক্তরাজ্য সরকার ইতোমধ্যে যাত্রীদের সীমান্ত পারাপারের জন্য অতিরিক্ত সময় হাতে রাখার পরামর্শ দিয়েছে। সরকার জানিয়েছে, গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণ মৌসুমে ভোগান্তি কমাতে ইইউ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং ডোভারসহ গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তপথে অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

নতুন ব্যবস্থার উদ্দেশ্য সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করা এবং নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থানকারীদের শনাক্ত করা। কিন্তু ব্রিটিশ পর্যটকদের অভিজ্ঞতা বলছে, প্রযুক্তি ও বিভিন্ন দেশের সীমান্ত ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় না বাড়ালে ইউরোপ ভ্রমণের শুরুতেই যাত্রীদের জন্য নতুন এই ডিজিটাল ব্যবস্থাই বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে থাকবে।