ব্রিটেন সংবাদ

লন্ডনের বাইরে নতুন ক্ষমতার কেন্দ্র, ‘নম্বর ১০ নর্থ’ থেকে ব্রিটেন চালাচ্ছেন বার্নহ্যাম

লন্ডনের বাইরে নতুন ক্ষমতার কেন্দ্র, ‘নম্বর ১০ নর্থ’ থেকে ব্রিটেন চালাচ্ছেন বার্নহ্যাম

লন্ডন, ২৩ আগস্ট: ব্রিটেনের রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রচলিত কেন্দ্র লন্ডনের বাইরে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগকে আরও দৃশ্যমান করলেন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। ম্যানচেস্টারে স্থাপিত নতুন সরকারি কেন্দ্র ‘নম্বর ১০ নর্থ’ থেকে মন্ত্রী ও আঞ্চলিক মেয়রদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করছেন তিনি।

ম্যানচেস্টারের হেরন হাউসে গড়ে তোলা এই কেন্দ্রকে বার্নহ্যাম শুধু প্রধানমন্ত্রীর আরেকটি কার্যালয় হিসেবে দেখছেন না। তাঁর পরিকল্পনায় এটি হবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, আবাসন, অবকাঠামো ও আঞ্চলিক উন্নয়নের জন্য সরকারের একটি ‘সিচুয়েশন রুম’—যেখান থেকে লন্ডনকেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সংস্কৃতি বদলে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

সম্প্রতি ‘নম্বর ১০ নর্থ’-এ মন্ত্রী ও মেয়রদের নিয়ে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বার্নহ্যামের আলোচনার কেন্দ্রে ছিল বড় অবকাঠামো প্রকল্প, আবাসন নির্মাণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়নের গতি বাড়ানো। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১০ বছরে আবাসন খাতে প্রায় ৩৯ বিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগের লক্ষ্য রয়েছে।

বার্নহ্যামের সরকারের বড় লক্ষ্যগুলোর একটি হলো ইংল্যান্ডের আবাসন সংকট মোকাবিলা। এজন্য আঞ্চলিক মেয়রদের হাতে পরিকল্পনা অনুমোদনের আরও ক্ষমতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বড় আবাসন প্রকল্প স্থানীয় পর্যায়ে আটকে গেলে মেয়ররা তা নিজেদের হাতে নিয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার সুযোগ পাবেন। সরকারের যুক্তি, এতে দীর্ঘসূত্রতা কমবে এবং প্রয়োজনীয় বাড়ি নির্মাণ দ্রুত করা সম্ভব হবে।

তবে এই ক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়ে স্থানীয় সরকার ও বাসিন্দাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় আপত্তি উপেক্ষা করে বড় প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে মেয়রদের নতুন ক্ষমতা কতটা গ্রহণযোগ্য হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।

বার্নহ্যামের ‘নম্বর ১০ নর্থ’ পরিকল্পনার পেছনে মূল দর্শন হলো ব্রিটেনের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ। তাঁর ভাষায়, দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতা ও সম্পদ লন্ডনের কেন্দ্রে জমা হয়েছে; এবার সেই ক্ষমতা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়ার সময় এসেছে।

তবে প্রতীকী উদ্যোগের পাশাপাশি বাস্তব ফল দেখানোর চাপও বাড়ছে। অর্থনীতি, সরকারি ব্যয়, কল্যাণভাতা ও আবাসন—সব ক্ষেত্রেই বড় সিদ্ধান্ত নিতে হবে বার্নহ্যাম সরকারকে। আগামী অক্টোবরে বাজেটও হবে তাঁর সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।

ম্যানচেস্টারে প্রধানমন্ত্রীর নতুন ঘাঁটিকে তাই কেউ দেখছেন ব্রিটিশ রাজনীতির ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের নতুন অধ্যায় হিসেবে, আবার কেউ এটিকে রাজনৈতিক প্রতীক হিসেবে দেখছেন। শেষ পর্যন্ত ‘নম্বর ১০ নর্থ’ কতটা কার্যকর পরিবর্তন আনতে পারে, তার উত্তর মিলবে সরকারের নীতির বাস্তব ফলাফলে—শুধু ম্যানচেস্টারের নতুন অফিসের সাজসজ্জায় নয়।