বাংলাদেশ সংবাদ

রাজধানীসহ সারাদেশে বিদ্যুৎ সংকট, বাড়ল আরও লোডশেডিং

রাজধানীসহ সারাদেশে বিদ্যুৎ সংকট, বাড়ল আরও লোডশেডিং

নিজস্ব প্রতিবেদক, ২৩ আগস্ট:

ইদানিং দেশে ছুটির দিনেও স্বস্তি মিলছে না বিদ্যুৎ সরবরাহ। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় শনিবার বেড়েছে লোডশেডিং। দুপুরের পর জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের ঘাটতি দ্রুত বাড়তে থাকায় ঢাকার অনেক এলাকায় একাধিকবার বিদ্যুৎ বন্ধ রাখতে হয়েছে।

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, শনিবার বিকেল ৫টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ১৫৭ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ হয়েছে ১৪ হাজার ২৭৩ মেগাওয়াট। এতে ঘাটতি দাঁড়ায় ১ হাজার ৮৮৪ মেগাওয়াট।

এর কিছু আগে বিকেল ৪টায় ঘাটতি ছিল আরও বেশি—১ হাজার ৯৩৫ মেগাওয়াট। ওই সময় ১৬ হাজার ২৪ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ১৪ হাজার ৮৯ মেগাওয়াট। বিকেল ৩টাতেও ঘাটতি ছিল ১ হাজার ৮৯১ মেগাওয়াট।

দিনের শুরুতে পরিস্থিতি তুলনামূলক নিয়ন্ত্রণে থাকলেও দুপুরের পর সংকট তীব্র হয়। দুপুর ২টায় ঘাটতি ছিল ৬৬৭ মেগাওয়াট, আর ১টায় ৭৮৬ মেগাওয়াট।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিমের ভাষ্য, গ্যাস সরবরাহ মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও কয়লাভিত্তিক কয়েকটি কেন্দ্র থেকে প্রত্যাশিত উৎপাদন পাওয়া যাচ্ছে না। একই সঙ্গে আদানি থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহও কমেছে। পটুয়াখালীর নরিংকো, পায়রা ও মাতারবাড়ী কেন্দ্র থেকেও দিনের বিভিন্ন সময়ে উৎপাদন কম ছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাত ১টার দিকে আদানির বিদ্যুৎ উৎপাদন নেমে আসে ৯৫৫ মেগাওয়াটে। এর এক ঘণ্টা আগে উৎপাদন ছিল ১ হাজার ৩০৪ মেগাওয়াট। অর্থাৎ এক ঘণ্টায় উৎপাদন কমে যায় ৩৪৯ মেগাওয়াট।

এ ছাড়া পায়রা কেন্দ্র থেকে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট এবং নরিংকো ও মাতারবাড়ী মিলিয়ে আরও প্রায় ৬০০ মেগাওয়াট কম বিদ্যুৎ পাওয়া গেছে। এতে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ ঘাটতি আরও বেড়ে যায়।

ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) জানিয়েছে, শনিবার তাদের এলাকায় সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ২ হাজার ৩৩৩ মেগাওয়াট। সেখানে ঘাটতি ছিল প্রায় ২৫০ মেগাওয়াট। ফলে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় দুই থেকে তিন দফা লোডশেডিং করতে হয়েছে।

অন্যদিকে ডেসকোর আওতাধীন এলাকায় চাহিদা ছিল প্রায় ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট। ঘাটতি ছিল প্রায় ৪০০ মেগাওয়াট। কোনো কোনো এলাকায় চার ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার খবর পাওয়া গেছে।

গত রাতেও জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ ঘাটতি ছিল দুই হাজার মেগাওয়াটের বেশি। রাত ২টায় চাহিদার তুলনায় ঘাটতি ছিল ২ হাজার ৯৯ মেগাওয়াট এবং রাত ৩টায় তা বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ৩৫ মেগাওয়াটে।

বিদ্যুৎ খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, গ্যাসের সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও কয়লা ও অন্যান্য জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন কমে যাওয়াই সাম্প্রতিক ঘাটতির অন্যতম কারণ। ফলে চাহিদা ও উৎপাদনের ব্যবধান মেটাতে জাতীয় গ্রিডে চাপ বাড়ছে এবং বাধ্য হয়ে বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে।