‘‘দেশ থেকে দেশান্তরে, ভয়েস অব পিপল সবার ঘরে’’
পশ্চিমা বিশ্বে বাড়ছে এআইবিরোধী ক্ষোভ
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ২৩ অক্টোবর:
পশ্চিমা গণমাধ্যমের শিরোনাম দেখে মনে হতে পারে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বিরুদ্ধে জনরোষ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে সর্বত্র। বাস্তবে পরিস্থিতি এতটা একমুখী নয়। এআই নিয়ে উদ্বেগ ও বিরোধিতা বাড়লেও তা এখনো সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে সমানভাবে ছড়িয়ে পড়েনি। তবে আগামীতে যে ক্ষোভ আরও বাড়বে তা অনুমান করা যাচ্ছে এখনই।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এআই দিয়ে তৈরি নিম্নমানের, বিভ্রান্তিকর ও বাস্তবতাবিবর্জিত ছবি-ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় বিরক্তি বাড়ছে। বিশেষ করে ভুয়া সংবাদ, রাজনৈতিক প্রচারণা এবং মানুষের আবেগকে কাজে লাগিয়ে দর্শক টানার উদ্দেশ্যে তৈরি কৃত্রিম কনটেন্ট নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

যুক্তরাজ্যের কিংস কলেজ লন্ডন ও রেসপনসিবল এআই ইউকের ২০২৬ সালের এক জরিপেও জনমতের এই পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। জুনে ২,০৫৫ জন প্রাপ্তবয়স্কের ওপর পরিচালিত জরিপে দেখা যায়, ৪২ শতাংশ মানুষ ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন উদ্বেগের কারণে ইচ্ছাকৃতভাবে এআইয়ের ব্যবহার সীমিত করছেন। একই সময়ে ৫২ শতাংশ মনে করেন, এআইয়ের ঝুঁকি এর সম্ভাব্য সুবিধার চেয়ে বেশি।
তবে এআইবিরোধী মনোভাবকে বিশ্বব্যাপী অভিন্ন প্রবণতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। গ্যালাপের ২০২৬ সালের ৩৭টি দেশের জরিপে দেখা গেছে, ৩৪টি দেশেই এআই সম্পর্কে ইতিবাচক অনুভূতি নেতিবাচক অনুভূতির চেয়ে বেশি। অর্থাৎ, প্রযুক্তিটির সম্ভাবনা নিয়ে আগ্রহের পাশাপাশি উদ্বেগও বাড়ছে; দেশ ও জনগোষ্ঠীভেদে মনোভাবের পার্থক্য রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মূল প্রশ্ন এআইকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করা নয়; বরং এর ব্যবহার কতটা স্বচ্ছ, নিরাপদ ও জবাবদিহিমূলক হবে, তা নিশ্চিত করা। মানুষের চাকরি, ব্যক্তিগত তথ্য, সৃজনশীল কাজের স্বত্ব এবং ভুয়া তথ্যের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগের কার্যকর সমাধান না হলে এআইয়ের বিরুদ্ধে জনসন্দেহ আরও বাড়তে পারে।