তথ্যনির্ভর ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের জন্য—ভয়েস অব পিপল
যুক্তরাজ্যে ঝড় অস্টিনের তাণ্ডব, বিদ্যুৎহীন প্রায় ৭ হাজার বাড়ি, এরপরের ঝড় আসছে বোলেও
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ২৩ অক্টোবর :
যুক্তরাজ্যের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ঝড় অস্টিনের তাণ্ডবে বিদ্যুৎ সরবরাহ, সড়ক ও রেল যোগাযোগ এবং বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। ঘণ্টায় ৮০ মাইল পর্যন্ত বেগে ঝোড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টিতে কর্নওয়াল ও ডেভনের বিভিন্ন এলাকায় গাছ উপড়ে পড়েছে, যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একাধিক সড়কে চলাচল ব্যাহত হয়েছে। শুক্রবার সকালে প্রায় ৭ হাজার বাড়ি বিদ্যুৎহীন থাকার খবর পাওয়া গেলেও পরবর্তী আপডেটে কর্নওয়ালেই ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির সংখ্যা বেড়ে ৯ হাজার ২৫১টিতে পৌঁছায়। দিনের পরবর্তী সময়ে বিদ্যুৎবিহীন বাড়ির সংখ্যা আরও বাড়ার খবরও প্রকাশিত হয়েছে।
ব্রিটিশ আবহাওয়া দপ্তর মেট অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় প্রবল বাতাস ও বড় ঢেউয়ের আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকায় আবহাওয়াসংক্রান্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

উপড়ে পড়েছে গাছ, ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি
কর্নওয়ালের পেনজান্সে ঝোড়ো বাতাসে একাধিক বড় গাছ উপড়ে পড়েছে। আলেকজান্দ্রা রোডে গাছ পড়ে কয়েকটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সড়কটির কিছু অংশে গাছ পড়ে থাকলেও সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করা সম্ভব হয়েছে।
ডেভনেও ঝড়ের প্রভাব পড়েছে। এক্সেটার ও নিউটন অ্যাবটের মধ্যবর্তী এ৩৮০ সড়কের টেলিগ্রাফ হিলে দক্ষিণমুখী লেনে গাছ পড়ে যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়। ঝোড়ো বাতাসের সঙ্গে ভারী বৃষ্টির কারণে সড়কে পানি জমে স্থানীয়ভাবে বন্যা পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কাও রয়েছে।

বিদ্যুৎহীন বাড়ি, স্কুল বন্ধ ও দেরিতে খোলার ঘোষণা
কর্নওয়ালের সলটাশ, ট্রুরো, রেডরুথ ও পেনজান্স এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার সকালে জাতীয় গ্রিডের তথ্য অনুযায়ী, কর্নওয়ালে ১২টি পৃথক ঘটনায় ৫ হাজারের বেশি বাড়ি বিদ্যুৎহীন ছিল। পরে কাউন্টি কর্তৃপক্ষ জানায়, ২১টি বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৯ হাজার ২৫১টি বাড়ি।
ঝড়ের কারণে কর্নওয়ালের চারটি স্কুল বন্ধ রাখা হয়। আরও ৭৭টি স্কুল দেরিতে খোলার সিদ্ধান্ত নেয়। শিশুদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে অভিভাবকদের স্কুলের সর্বশেষ ঘোষণা যাচাই করে যাত্রা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রেল ও বিমান চলাচলেও বিঘ্ন
ঝড়ের কারণে ডেভন ও কর্নওয়ালের রেলপথে ট্রেনের গতি সীমিত করা হয়েছে। গ্রেট ওয়েস্টার্ন রেলওয়ে জানিয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে শুক্রবার দুপুর ১টা পর্যন্ত কয়েকটি রুটে গতি নিয়ন্ত্রণ করা হবে। ফলে ট্রেনের সংখ্যা কমতে পারে, যাত্রায় বেশি সময় লাগতে পারে এবং কিছু সকালের ট্রেন বাতিল হতে পারে।
দূরপাল্লার কয়েকটি ট্রেন রিডিং থেকে প্লাইমাউথ পর্যন্ত চলাচল করছে। যাত্রীদের যাত্রার আগে সর্বশেষ সময়সূচি যাচাই করতে বলা হয়েছে।
বিমান চলাচলেও বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। লোগানএয়ার ঝড়ের কারণে জার্সি, ব্রিস্টল, ম্যানচেস্টার, কর্নওয়ালের নিউকুয়ে বিমানবন্দর ও এক্সেটার-সংযুক্ত রুটে ১৮টি ফ্লাইট বাতিল করেছে। এক্সেটার বিমানবন্দরেও বিলম্ব ও ফ্লাইট বাতিলের আশঙ্কা রয়েছে। যাত্রীদের বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের অবস্থা জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সমুদ্র উপকূলে বিপজ্জনক পরিস্থিতি
দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের উপকূলে প্রবল বাতাসের সঙ্গে বড় ঢেউ আছড়ে পড়ছে। নিউহেভেন বন্দরে উত্তাল সমুদ্রের কারণে ফ্রান্সের সঙ্গে কয়েকটি ফেরি চলাচল বাতিল হয়েছে। ডোভার থেকে ফ্রান্সের কালাইস রুটেও ডিএফডিএস কয়েকটি ফেরি বাতিল করেছে।
মেট অফিস জানিয়েছে, ঝোড়ো বাতাসে উড়ে আসা বস্তু, উপড়ে পড়া গাছ ও ভবনের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মানুষের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। উপকূলীয় সড়ক ও খোলা জায়গায় চলাচলের সময় বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।

অস্টিনের পর আসছে ঝড় বোলেও
অস্টিনের প্রভাব কমতে না কমতেই যুক্তরাজ্যের দিকে ধেয়ে আসছে মৌসুমের দ্বিতীয় নামযুক্ত ঝড় বোলেও। শনিবার থেকে রোববার পর্যন্ত স্কটল্যান্ড, উত্তর ইংল্যান্ড ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকায় প্রবল বাতাসের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় এলাকায় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৭০ থেকে ৮০ মাইল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
এসব এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট, গাছ উপড়ে পড়া, ভবনের ক্ষয়ক্ষতি এবং সড়ক ও রেল যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। ঝড় বোলেওর কারণে নতুন করে আবহাওয়াসংক্রান্ত সতর্কতাও জারি করা হয়েছে।
বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ
কর্তৃপক্ষ অপ্রয়োজনীয় যাত্রা স্থগিত রাখা, উপকূলীয় এলাকা এড়িয়ে চলা এবং যাত্রার আগে আবহাওয়া ও পরিবহন পরিস্থিতি যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে। বিদ্যুৎহীন এলাকায় বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় আলো, মোবাইল চার্জের ব্যবস্থা ও জরুরি সামগ্রী প্রস্তুত রাখতেও বলা হয়েছে।
পরপর দুটি ঝড়ের প্রভাবে সপ্তাহান্তে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে আবহাওয়া ও যাতায়াত পরিস্থিতি অনিশ্চিত থাকতে পারে।