যুক্তরাজ্যে পেনশন সংকটের সতর্কতা: ১৯৬৫–৮০ প্রজন্ম সবচেয়ে ঝুঁকিতে

যুক্তরাজ্যে পেনশন সংকটের সতর্কতা: ১৯৬৫–৮০ প্রজন্ম সবচেয়ে ঝুঁকিতে

ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ২৪ মে:

যুক্তরাজ্যের অবসরকালীন সঞ্চয় ব্যবস্থা এক গভীর সংকটের দিকে যাচ্ছে বলে নতুন একটি সরকারি পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, লক্ষ লক্ষ মানুষ তাদের অবসর জীবনের জন্য যথেষ্ট অর্থ সঞ্চয় করতে ব্যর্থ হচ্ছেন এবং এর সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব পড়বে ১৯৬৫ থেকে ১৯৮০ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া প্রজন্মের ওপর।

সরকার গঠিত একটি বিশেষ কমিশনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই প্রজন্ম—যাদের সাধারণভাবে একটি নির্দিষ্ট প্রজন্মগত পরিচয়ে চিহ্নিত করা হয়—তারা অবসর জীবনের জন্য পরিকল্পনা ও সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি পিছিয়ে আছে। কমিশনের ভাষায়, এই গোষ্ঠীটি “অপর্যাপ্ত সঞ্চয়ের” ঝুঁকিতে সবচেয়ে বেশি ভুগছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যে কাজ করা বয়সী প্রায় দেড় কোটি মানুষ এখনো তাদের অবসর জীবনের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ জমা করছেন না। এর ফলে ভবিষ্যতে তাদের একটি বড় অংশ ন্যূনতম জীবনযাত্রার মান বজায় রাখতেও সমস্যায় পড়তে পারে।

বিশেষভাবে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই প্রজন্মের প্রতি সাতজনের মধ্যে অন্তত একজন বৃদ্ধ বয়সে এমন অবস্থায় পৌঁছাতে পারেন, যেখানে তাদের আয় মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্যও যথেষ্ট হবে না। কমিশন এই মানদণ্ডকে “ন্যূনতম অবসর জীবনযাত্রার মান” হিসেবে উল্লেখ করেছে।

এই সংকটের পেছনে ঐতিহাসিক কারণও রয়েছে। এই প্রজন্ম আগের মতো “চূড়ান্ত বেতনভিত্তিক” পেনশন সুবিধা পায়নি, আবার বর্তমানের বাধ্যতামূলক সঞ্চয় ব্যবস্থাতেও তারা পুরোপুরি অভ্যস্ত হয়ে উঠতে পারেনি।

২০১২ সাল থেকে চালু হওয়া স্বয়ংক্রিয় পেনশন অন্তর্ভুক্তি নীতির কারণে নতুন প্রজন্ম তুলনামূলকভাবে বেশি সঞ্চয়ের অভ্যাসে অভ্যস্ত হয়েছে। কিন্তু ১৯৬৫–৮০ প্রজন্ম এই সুবিধার বড় অংশই পায়নি।

অর্থনীতিবিদদের মতে, এই ব্যবধান ভবিষ্যতে সমাজে বড় ধরনের আর্থিক বৈষম্য তৈরি করতে পারে। একদিকে থাকবে পর্যাপ্ত সঞ্চয় থাকা অবসরজীবী, অন্যদিকে থাকবে বড় একটি জনগোষ্ঠী যারা কাজের শেষ বয়সেও আর্থিক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবে।

কমিশন সতর্ক করেছে, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।