সিলেটে নিজ মেয়েকে গলা কেটে হত্যা, মা গ্রেফতার
সিলেট প্রতিনিধি, ২৪ মে :
ফজরের আজানের শান্ত নীরবতা তখনো পুরোপুরি ভাঙেনি। সিলেট মহানগরের জালালাবাদ থানার পুরাতন কালারুকা গ্রামের একটি ঘরে ভোরের আলো আসার আগেই ঘটে গেল এক নির্মম ও হৃদয়বিদারক ঘটনা—মাত্র এক বছর আট মাস বয়সী শিশু মাইমুনা জান্নাত তোহাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে।
নিহত শিশুটির নিথর দেহ পড়ে ছিল নিজ ঘরের ভেতর। আর সেই ঘরেই ছিল তার সবচেয়ে কাছের মানুষ—মা। এই ঘটনায় শিশুটির মা সুবিনা বেগম (২৫)-কে আটক করেছে পুলিশ।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, শুক্রবার ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তখন শিশুটির বাবা আমীর আলী পাশের মসজিদে ফজরের নামাজ আদায় করতে গিয়েছিলেন। নামাজ শেষে তিনি ঘরে ফিরে আসেন এক ভয়াবহ দৃশ্যের সামনে—নিজ সন্তানের রক্তাক্ত দেহ।
শিশুটির বাবা আমীর আলী কাঁপা কণ্ঠে বলেন, ফজরের সময় শিশু তোহা ঘুম থেকে জেগে উঠেছিল। তিনি স্ত্রীকে নামাজ পড়তে বলে নিজে মসজিদে যান। কিছুক্ষণ পর ছোট ছেলে দৌড়ে এসে জানায়, ঘরে ভয়ংকর কিছু ঘটেছে। এরপর তিনি ছুটে এসে দেখেন সব শেষ।
ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে সুবিনা বেগমকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। পরে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, আটক সুবিনা বেগমকে থানায় রাখা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তিনি কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি। তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের পর ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে। পুলিশের ধারণা, তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন এবং চিকিৎসাধীন ছিলেন।
স্থানীয় ওসি শামসুল হাবিব বলেন, ভোরের দিকে মা বঁটি বা দা দিয়ে শিশুটির গলা কেটে হত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কিনা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
গ্রামের মানুষ এখনো এই ঘটনার শোক ও বিস্ময় কাটিয়ে উঠতে পারেনি। যাদের চোখে ছোট্ট তোহা ছিল ভোরের হাসি, সেই হাসি এখন পরিণত হয়েছে এক অবিশ্বাস্য শূন্যতায়।
একটি শিশুর নিথর দেহ, এক পরিবারের ভাঙন, আর একটি ভোরের অন্ধকার—সব মিলিয়ে সিলেটের এই ঘটনা রেখে গেছে শুধু একটাই প্রশ্ন: কীভাবে নিভে গেল এমন নিষ্পাপ জীবন?