ব্রিটেনে আগামীতে খাদ্যদ্রব্যের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা

ব্রিটেনে আগামীতে খাদ্যদ্রব্যের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা

ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ২৪ মে:

যুক্তরাজ্যে নতুন এক ধরনের প্যাকেজিং ট্যাক্স চালু হলে খাদ্যদ্রব্যের দাম আবারও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অর্থনীতি ও খুচরা খাতের বিশেষজ্ঞরা। নতুন এই ট্যাক্সের নাম হচ্ছে Extended Producer Responsibility (EPR)।

একটি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই বিলিয়ন পাউন্ড ব্যয়ের এই কর ব্যবস্থার নাম দেওয়া হয়েছে পরিবর্ধিত উৎপাদক দায়বদ্ধতা নীতি। এই নীতির আওতায় খাদ্য উৎপাদক, অনলাইন বিক্রেতা এবং প্যাকেজিং ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের ব্যবহৃত প্যাকেজিং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার খরচ বহন করতে হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই অতিরিক্ত খরচ শেষ পর্যন্ত উৎপাদকদের ওপর না থেকে ভোক্তাদের ওপরই চাপ হিসেবে পড়বে, ফলে সুপারমার্কেটসহ বাজারে খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পাবে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই করের উদ্দেশ্য হলো প্যাকেজিং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অর্থায়ন আরও কার্যকর করা এবং স্থানীয় প্রশাসনের পুনর্ব্যবহার কার্যক্রমকে শক্তিশালী করা। তবে ব্যবসায়িক খাতের অনেকেই এটিকে পরোক্ষ করের বোঝা হিসেবে দেখছেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই নতুন কর খাদ্য মূল্যস্ফীতিতে শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে। ফলে আগে থেকেই চাপে থাকা খাদ্যদ্রব্যের বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে খাদ্যদ্রব্যের দাম এমনিতেই ঊর্ধ্বমুখী। নতুন এই নীতি কার্যকর হলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সরকারি ও বেসরকারি হিসাব অনুযায়ী, এই ব্যবস্থা চালু হলে গড়ে প্রতিটি পরিবারের বছরে অতিরিক্ত প্রায় পঞ্চাশ থেকে ষাট পাউন্ড খরচ বাড়তে পারে।

অন্যদিকে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো বলছে, কাঁচামাল, পরিবহন ও প্যাকেজিং ব্যয় বাড়ার কারণে সুপারমার্কেটগুলো বাধ্য হয়ে পণ্যের দাম বাড়াবে। এতে সাধারণ ভোক্তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

শিল্প খাতের প্রতিনিধিরা আরও সতর্ক করেছেন যে, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কিছু প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়েও ভাবতে পারে।

তবে সরকারের অবস্থান হলো, এই নীতি দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাদের দাবি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার খরচ করদাতাদের বদলে উৎপাদকদের ওপর চাপানো হলে পরিবেশবান্ধব অর্থনীতি গড়ে উঠবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিবেশগত লক্ষ্য থাকলেও স্বল্পমেয়াদে এই নীতির কারণে খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়ার ঝুঁকি খুবই বাস্তব।