বাংলাদেশ সংবাদ

এক মাসে তিন ভয়াবহ পারিবারিক হত্যাকাণ্ড: ঘরে নিরাপদ থাকতে এখনই যা করবেন

এক মাসে তিন ভয়াবহ পারিবারিক হত্যাকাণ্ড: ঘরে নিরাপদ থাকতে এখনই যা করবেন

নিজস্ব প্রতিবেদক | ডেইলি ভয়েস অব পিপল, ২৪ আগস্ট:

ঘরকে বলা হয় মানুষের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়। কিন্তু গত দুই মাসে বাংলাদেশের তিনটি ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড সেই নিরাপত্তাবোধকেই প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। লক্ষ্মীপুরে মা ও তিন মেয়েকে, সিলেটে বৃদ্ধ দম্পতি ও গৃহপরিচারিকাকে এবং সর্বশেষ রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকসহ একই পরিবারের চার সদস্যকে নিজ বাড়ি বা বাসার ভেতরে হত্যা করা হয়েছে।

তিনটি ঘটনার কারণ ও তদন্তের গতিপথ আলাদা। কিন্তু একটি বিষয় স্পষ্ট—অপরিচিত তো বটেই, পরিচিত ব্যক্তি, বাসায় যাতায়াতকারী লোক এবং আশপাশের সন্দেহজনক পরিস্থিতি নিয়েও এখন পরিবারগুলোকে আরও সতর্ক হতে হবে।

লক্ষ্মীপুর: বাসায় ঢুকে মা ও তিন মেয়েকে হত্যা

গত ২৫ জুন লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে একটি ভাড়া বাসায় ঢুকে শাহিনুর বেগম এবং তাঁর তিন মেয়ে সাইমা, ইকরা ও সিপাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে ধরা পড়া অন্তর মজুমদার গণপিটুনির পর হাসপাতালে মারা যান। ফলে হত্যার প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে তদন্ত জটিল হয়ে পড়ে। পুলিশ বিভিন্ন সম্ভাব্য কারণ, পূর্বপরিচয় ও অন্যান্য দিক তদন্ত করেছে।

সিলেট: বৃদ্ধ দম্পতি ও গৃহপরিচারিকা নিহত

১২ আগস্ট সিলেট নগরের রায়নগরের একটি বাড়ি থেকে ব্যবসায়ী আবদুস সাত্তার, তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও গৃহপরিচারিকা তাহমিনার লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ একজন সন্দেহভাজনকে আটক করে এবং তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত বলে দাবি করা একটি ছুরি উদ্ধার করে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে এক ধরনের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও বিরোধের কথা উঠে এলেও নিহত দম্পতির পরিবারের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিনের জমি-সংক্রান্ত বিরোধের অভিযোগ করা হয়েছে। অর্থাৎ ঘটনার চূড়ান্ত কারণ এখনো তদন্তের বিষয়।

রংপুর: একই পরিবারের চারজন নিহত

সবচেয়ে সাম্প্রতিক ঘটনায় রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী এবং দুই সন্তানকে হত্যা করা হয়। পুলিশ বলছে, বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ার পর দুই তরুণের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয় এবং পরে একে একে পরিবারের চার সদস্যকে হত্যা করা হয়। গ্রেপ্তার দুই আসামি আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। তদন্তের স্বার্থে জবানবন্দির বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।

তিন ঘটনার পর সাধারণ মানুষের জন্য সতর্কবার্তা

এই ঘটনাগুলো থেকে আতঙ্কিত হওয়ার চেয়ে সতর্ক হওয়া জরুরি। বিশেষ করে—

  • বাসার দরজা কাউকে সহজে খুলে দেবেন না, পরিচিত হলেও তার পরিচয় ও আসার কারণ নিশ্চিত করুন।
  • বাসায় কাজ করা ব্যক্তি, মিস্ত্রি, ডেলিভারিম্যান বা নিয়মিত যাতায়াতকারীর পরিচয় ও ঠিকানা যাচাই করুন।
  • বাড়ির ছাদ, সিঁড়িঘর ও নির্জন অংশে কারা যাতায়াত করছে খেয়াল রাখুন।
  • সন্দেহজনক ব্যক্তি বা মাদকসেবনের ঘটনা দেখলে একা গিয়ে সংঘাতে জড়াবেন না; পরিবারের অন্য সদস্য, প্রতিবেশী ও পুলিশকে জানান।
  • বয়স্ক দম্পতি বা একা বসবাসকারী পরিবারের নিয়মিত খোঁজ নিন। ফোনে যোগাযোগ না হলে দ্রুত প্রতিবেশী বা স্বজনকে পাঠান।
  • সিসিটিভি, ভালো মানের তালা, দরজার ভিউয়ার ও পর্যাপ্ত আলো ব্যবহার করুন।
  • জরুরি পরিস্থিতিতে চিৎকার, প্রতিবেশীকে সতর্ক করা এবং দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খবর দেওয়া অনেক ক্ষেত্রে বড় বিপদ এড়াতে পারে।

ঘরকে নিরাপদ মনে করেই আমরা অসতর্ক হয়ে যাই। কিন্তু সাম্প্রতিক তিনটি হত্যাকাণ্ডের সবচেয়ে বড় শিক্ষা সম্ভবত এটাই—নিরাপত্তা শুধু তালা-চাবির বিষয় নয়; সতর্কতা, প্রতিবেশীর সঙ্গে যোগাযোগ এবং সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ।