বিশ্ব সংবাদ
২০২৭ সালে রেকর্ড গরমের আশঙ্কা, বড় ঝুঁকিতে বৃষ্টি ও খাদ্য উৎপাদন
বিশ্ব সংবাদ ডেস্ক, ২৫ আগস্ট:
আগামী ২০২৭ সাল বিশ্বের ইতিহাসে উষ্ণতম বছরগুলোর একটি, এমনকি নতুন রেকর্ড গড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তর মেট অফিস। এর পেছনে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের পাশাপাশি শক্তিশালী হয়ে ওঠা এল নিনো বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
মেট অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলমান এল নিনো বছরের শেষ দিকে সর্বোচ্চ শক্তিতে পৌঁছাতে পারে। সংস্থাটির দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস বিভাগের প্রধান অধ্যাপক অ্যাডাম স্কাইফ এটিকে নজিরবিহীন পরিস্থিতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এল নিনো আসলে কী?
সহজ ভাষায়, এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুচক্র, যার সময় সমুদ্রের স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি উষ্ণ পানি পূর্ব দিকে সরে আসে। সেই তাপ বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে এবং পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি, খরা, ঝড় ও তাপমাত্রার স্বাভাবিক ধরণ বদলে যেতে পারে।
সাধারণত দুই থেকে সাত বছর পরপর এল নিনোর আবির্ভাব ঘটে। এবার প্রশান্ত মহাসাগরের সংশ্লিষ্ট এলাকায় সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি বেশি। বছরের শেষ নাগাদ পার্থক্য ৩ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে।
সমুদ্রের প্রায় ১০০ মিটার গভীরেও কিছু এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি উষ্ণ পানি জমে আছে। এই পানি ওপরে উঠে এলে এল নিনোর শক্তি আরও বাড়তে পারে।
বাংলাদেশের জন্য কী বার্তা?
এল নিনোর প্রভাব দক্ষিণ এশিয়ার জন্যও উদ্বেগের। এর কারণে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে বাংলাদেশসহ এ অঞ্চলে খরা, পানির সংকট এবং কৃষি উৎপাদনে চাপ তৈরি হতে পারে।
শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বের অন্য অঞ্চলেও ভিন্ন ধরনের চরম আবহাওয়া দেখা দিতে পারে। অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকার উত্তরাঞ্চলে খরা ও দাবানলের ঝুঁকি বাড়তে পারে। আবার পেরু, ইকুয়েডর ও যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলে অতিবৃষ্টি ও বন্যার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
এর প্রভাব শুধু আবহাওয়ায় সীমাবদ্ধ নয়। অতীতে শক্তিশালী এল নিনোর সময় কফি, চাল ও কোকোর উৎপাদন কমে যাওয়ায় খাদ্যের দাম বেড়েছিল। এবারও পরিস্থিতি খারাপ হলে বিশ্বজুড়ে খাদ্যনিরাপত্তার ওপর চাপ বাড়তে পারে।
তবে একটি বিষয় পরিষ্কার—এল নিনো নিজে জলবায়ু পরিবর্তনের ফল কি না, কিংবা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এটি আরও শক্তিশালী হচ্ছে কি না, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে এখনো নিশ্চিত সিদ্ধান্ত নেই। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা ও আইপিসিসিও এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
তবে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ইতোমধ্যে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। তাই উষ্ণ পৃথিবীর সঙ্গে শক্তিশালী এল নিনো যুক্ত হলে ২০২৭ সালে শুধু গরমই নয়, খরা, বন্যা, কৃষি উৎপাদন ও খাদ্যের দাম—সবকিছুর ওপরই বাড়তি চাপ পড়তে পারে।