‘‘দেশ থেকে দেশান্তরে, ভয়েস অব পিপল সবার ঘরে’’
ইরানে নতুন করে হামলার আশঙ্কা, যুদ্ধ বন্ধে তেহরানে সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্কের কূটনীতিকরা
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ২৭ অক্টোবর:
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কার মধ্যে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা ইরানের রাজধানী তেহরানে দেশটির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আবারও ইরানে সামরিক হামলা শুরু করতে পারে—এমন আশঙ্কার মধ্যেই যুদ্ধ বন্ধের পথ খুঁজতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বৈঠকের মূল লক্ষ্য হচ্ছে উত্তেজনা কমানো, আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতার পথ তৈরি করা।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে আবারও হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন—এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। ইসরায়েলের ২৭ অক্টোবরের নির্বাচন এবং আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে-পরে নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে হামলার প্রস্তুতি নিয়ে প্রচারিত এসব খবরের সবকিছু স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বৈঠকে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিনের অংশ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। তাঁরা ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও আলোচকদের সঙ্গে বৈঠকে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।
আলোচনায় ইয়েমেনের যুদ্ধ এবং ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের সৌদি আরবে হামলার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে বলে আঞ্চলিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
সৌদি আরবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই কূটনৈতিক উদ্যোগের উদ্দেশ্য উত্তেজনা প্রশমনের উপায় খুঁজে বের করা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার করা এবং স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করা।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, তেহরান কূটনীতির পথ বন্ধ করেনি। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বার্তা পাঠানো হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। তবে তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা দাবি এখনো বড় বাধা হয়ে রয়েছে।
এর আগে রোববার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু সতর্ক করে বলেন, ইরান অথবা দেশটির মিত্রগোষ্ঠীগুলো ইসরায়েলের নির্বাচনের আগে হামলা চালাতে পারে। তিনি দাবি করেন, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী প্রতিরক্ষা ও পাল্টা হামলা—দুই ধরনের পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুত।
এদিকে কাতারের মধ্যস্থতাকারীরাও রোববার তেহরানে গিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে তাঁরাও আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করছেন বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে।
তবে কূটনৈতিক তৎপরতা সত্ত্বেও পরিস্থিতি অনিশ্চিত। এর আগে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা প্রশমনের উদ্যোগ এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে নেওয়া সমঝোতা ভেঙে পড়ে। নতুন করে সংঘাত শুরু হলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ এবং বিশ্ব অর্থনীতির ওপর তার প্রভাব পড়তে পারে।