লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সম্মাননায়
‘বেস্ট অনলাইন নিউজ রিপোর্টার ইন লন্ডন’ অ্যাওয়ার্ড পেলেন আনোয়ারুল ইসলাম অভি
ভয়েস অব পিপল কমিউনিটি সংবাদ ডেস্ক :
ব্রিটেনে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের প্রথম ও সবচেয়ে বড় সংগঠন লন্ডন-বাংলা প্রেস ক্লাবের দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ও নির্বাচন উপলক্ষে প্রদত্ত সম্মাননায় ‘বেস্ট অনলাইন নিউজ রিপোর্টার ইন লন্ডন’ অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছেন সাংবাদিক, কবি ও মানবাধিকার কর্মী আনোয়ারুল ইসলাম অভি।

গত রবিবার (২৫ জানুয়ারি ২০২৬) পূর্ব লন্ডনের ইম্প্রেশন ভেন্যুতে আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ২০ জন গণমাধ্যমকর্মীর হাতে এই অ্যাওয়ার্ড তুলে দেওয়া হয়। এ বছর প্রথমবারের মতো লন্ডনে কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা প্রদানের উদ্যোগ নেয় লন্ডন-বাংলা প্রেস ক্লাব।
আনোয়ারুল ইসলাম অভি ৫২বাংলা টিভির সম্পাদক ও প্রকাশক। ২০১৮ সালের ভাষার মাসে যাত্রা শুরু করা এই গণমাধ্যম বহুভাষিক ও বহু জাতিসত্তার ব্রিটেনের ডায়াসপোরা বাঙালি কমিউনিটির সাফল্য, সম্ভাবনা, সমস্যা, ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ইতিবাচক উদ্যোগগুলো নিয়মিতভাবে তুলে ধরছে। ‘বাংলা সংযোগ দেশে দেশে’ শ্লোগানে পরিচালিত এই গণমাধ্যমের অন্যতম সম্পাদকীয় দর্শন হলো ‘ভাইরাল কন্টেন্ট’ নির্ভরতার বিপরীতে ‘কমিউনিটি এনগেজমেন্ট ও উন্নয়ন সাংবাদিকতা’কে গুরুত্ব দেওয়া।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি আনোয়ারুল ইসলাম অভি একজন কবি ও সাহিত্যকর্মী। ছড়া ও কবিতা দিয়ে তার লেখক জীবনের সূচনা। মৌলিক ও সৃজনশীল লেখায় মানুষ, প্রকৃতি ও সমাজ তার প্রধান অনুষঙ্গ। লেখক হিসেবে তিনি বিশ্বাস করেন, প্রতিটি মানুষের ভেতরেই কল্যাণমুখী ও সুন্দর এক প্রতিভা নিহিত থাকে, যা প্রকাশ পেলে ব্যক্তি ও সমাজজীবনে আলোর স্ফুরণ ঘটতে পারে।

তিনি সম্পাদনা করেছেন গ্রামভিত্তিক আঞ্চলিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ ‘জলঢুপ: ইতিহাস ঐতিহ্য’ (২০০২) এবং প্রকাশ করেছেন কাব্যগ্রন্থ ‘ঝাউবন কান্দে ঘরকণ্যার লাগি’ (২০১৩)। এছাড়া আরও তিনটি গ্রন্থ ও তিনটি ছোট কাগজ সম্পাদনার পাশাপাশি তিনি শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক ওয়েবজিন ‘পলল’-এর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
নব্বইয়ের দশকে সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজে অধ্যয়নকালে সাহিত্য-সংস্কৃতির নানা কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হন অভি। তখন থেকেই বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বইপড়া আন্দোলনের একজন একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে যুক্ত হন। ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকায় লেখালেখির মাধ্যমে তার সংবাদকর্মী হিসেবে যাত্রা শুরু। পরবর্তীতে ১৯৯৮ সাল থেকে সিলেটের দৈনিক আজকের সিলেট পত্রিকার বিয়ানীবাজার উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন।
লন্ডনে প্রায় এক দশক তিনি হেলথ অ্যান্ড সোশ্যাল কেয়ার খাতের একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে টিম লিডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি নানা মানবিক ও স্বেচ্ছাসেবী কর্মকাণ্ডে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছেন।
বাংলাদেশে অবসরপ্রাপ্ত গুণী শিক্ষকদের কল্যাণে যুক্তরাজ্যে প্রতিষ্ঠিত ‘টি আলী স্যার ফাউন্ডেশন ইউকে’-এর তিনি ফাউন্ডার সদস্য ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক। এ সংগঠন থেকে প্রতিবছর শিক্ষক সম্মাননা পদক ও নগদ সহায়তা প্রদান করা হয়। তিনি ‘উই ওয়ান্ট ঈদ হলিডে ইন ইউকে’ ক্যাম্পেইনের সমন্বয়ক হিসেবেও দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন, যার মাধ্যমে ব্রিটেনে মুসলমানদের দুই ঈদে ছুটির দাবিতে কমিউনিটিতে সচেতনতা তৈরি হয়েছে।
এছাড়া বাংলাদেশে অসচ্ছল পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফলজ ও ঔষধি বৃক্ষরোপণ এবং জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘সবুজে হাসি সবুজে বাঁচি’-এর নির্বাহী পরিচালক তিনি। তিনি নিয়মিত NHS Blood Donation, Save the Children এবং London Air Ambulance-এর চ্যারিটি ডোনার হিসেবেও মানবিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন। পরিবেশ সুরক্ষায় কাজ করা আন্তর্জাতিক সংগঠন Trees for Cities-এর সাথেও তিনি স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে সম্পৃক্ত।
চার বোন ও দুই ভাই মিলে ২০০৪ সালে বাবা সমছুল ইসলাম ও মা করিমা ইসলামের নামে প্রতিষ্ঠিত ‘সমছুল-করিমা ফাউন্ডেশন’-এর প্রধান নির্বাহী হিসেবে তিনি শিক্ষা ও শিক্ষকবান্ধব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন। ‘অন্ধকারে আলো’ শ্লোগানে কাজ করা এই ফাউন্ডেশনের পাশাপাশি ৫২বাংলা মিডিয়া ইউকে-এর অর্থায়নে বাংলাদেশে মেধাবী লেখকদের মৌলিক সৃজনশীল আটটি বই প্রকাশ করা হয়েছে।
লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস বারোর বাসিন্দা আনোয়ারুল ইসলাম অভির গ্রামের বাড়ি সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার জলঢুপ (বড়বাড়ি)। ওই এলাকার ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি চর্চার লক্ষ্যে ১৯৯৮ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘নয়ন সাহিত্য পরিষদ’।
এই সম্মাননা প্রাপ্তিতে সহকর্মী সাংবাদিক, শুভানুধ্যায়ী ও কমিউনিটির বিভিন্ন মহল থেকে আনোয়ারুল ইসলাম অভিকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।