ইস্ট লন্ডন মসজিদের সেবার পরিধি বাড়াতে ও আর্থিক স্বনির্ভরতায় ৫ বছর মেয়াদি মহাপরিকল্পনা
কমিউনিটি ডেস্ক,, ২৫ ফেব্রুয়ারি : পূর্ব লন্ডনে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ইস্ট লন্ডন মসজিদ আগামী পাঁচ বছরের জন্য একটি সমন্বিত কৌশলগত পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। মসজিদের সেবার পরিধি বৃদ্ধি এবং আর্থিক স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনকে সামনে রেখে এই পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বাংলা মিডিয়ার সাংবাদিকদের সম্মানে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে মসজিদ কমিটির নেতৃবৃন্দ এ পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন এবং কমিউনিটির সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মসজিদের চেয়ারম্যান ড. আব্দুল হাই মুর্শেদ। সঞ্চালনা করেন সিইও জুনায়েদ আহমদ। বক্তব্য দেন সেক্রেটারি সিরাজুল ইসলাম হীরা। রমজানের গুরুত্ব ও তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করেন প্রধান ইমাম ও খতীব শায়খ আব্দুল কাইয়ুম। এ সময় ট্রাস্টি মোহাম্মদ আব্দুল মালিকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে মিশর থেকে আগত তারাবিহর ইমাম হাফিজ মুয়তাজ আল ঘানাম পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন।
ড. আব্দুল হাই মুর্শেদ বলেন, আপাতত নতুন কোনো স্থাপনা বা প্রকল্প হাতে নেওয়ার পরিকল্পনা নেই। বরং বিদ্যমান কার্যক্রম সম্প্রসারণ, সেবার মানোন্নয়ন এবং পূর্বের ঋণ পরিশোধের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানকে ঋণমুক্ত ও স্বনির্ভর করে তোলাই এখন প্রধান লক্ষ্য। তিনি জানান, পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিশেষ ফান্ডরেইজিং কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
ফান্ডরেইজিং উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে—বছরে ৫০০ পাউন্ড দান করে ‘খাদিম’ হওয়ার সুযোগ, এক হাজার পাউন্ড দানের মাধ্যমে আল-হামরা ডোনার ওয়ালে নিজের বা প্রিয়জনের নাম সংরক্ষণ, এবং প্রতিদিন এক পাউন্ড দানের লক্ষ্য নিয়ে মাসিক ন্যূনতম ৩০ পাউন্ডের স্ট্যান্ডিং অর্ডার চালু করার আহ্বান।
মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানায়, আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার বিকেল ৩টা থেকে ফজর পর্যন্ত চ্যানেল এস টিভিতে একটি লাইভ ফান্ডরেইজিং অ্যাপিল সম্প্রচারিত হবে। এ আয়োজনে সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য কমিউনিটির সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
চেয়ারম্যান আরও জানান, সম্প্রতি মসজিদের সর্বশেষ সম্প্রসারণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং মূল হল সম্পূর্ণভাবে খুলে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে একসঙ্গে ১০ হাজারেরও বেশি মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। রমজানের প্রথম সপ্তাহেই প্রায় ৭০ হাজার মুসল্লি এখানে নামাজ আদায় করেছেন এবং সারা বছরে প্রায় ১৭ লাখ মানুষের পদচারণায় মসজিদ প্রাঙ্গণ প্রাণবন্ত থাকে।
রমজান মাসে মুসল্লিদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থার কথাও তুলে ধরা হয়। প্রতি বছরের মতো এবারও এক হাজার মানুষের ইফতারের আয়োজন করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণভাবে কমিউনিটির দানের ওপর নির্ভরশীল। মাত্র ৩ পাউন্ড দানে একজন রোজাদারের ইফতার নিশ্চিত করা যায় এবং ৩ হাজার পাউন্ড দানে একদিনে এক হাজার মানুষের ইফতারের ব্যবস্থা করা সম্ভব।
মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানায়, ট্রাস্টি, স্টাফ, কমিউনিটির নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিস্তৃত পরামর্শের ভিত্তিতে এই পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। পরিকল্পনা সফল করতে সবার আন্তরিক সহযোগিতাই হবে সবচেয়ে বড় শক্তি—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।