বাংলাদেশ সংবাদ

বিদ্যুতের ঘাড়ে ৬০ হাজার কোটি টাকার বকেয়ার বোঝা

বিদ্যুতের ঘাড়ে ৬০ হাজার কোটি টাকার বকেয়ার বোঝা

বাংলাদেশ সংবাদ, ২৭ আগস্ট:

দেশের বিদ্যুৎ খাত আবারও সামনে এনেছে ভয়াবহ এক আর্থিক বাস্তবতা। আগের সরকার ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ খাতে জমে থাকা প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার বকেয়া এখন বর্তমান সরকারের জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, বিদ্যুতের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি এই বিপুল দেনা পরিশোধ করাও সরকারের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ।

বগুড়ার শিবগঞ্জে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে অতীতে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ কেনা হলেও তার বিল সময়মতো পরিশোধ করা হয়নি। ফলে বছরের পর বছর ধরে জমতে থাকা বকেয়ার দায় এখন সরকারের কাঁধে এসে পড়েছে।

বিদ্যুৎ খাতে এমন বিপুল বকেয়া শুধু সরকারি অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি করে না; এর প্রভাব পড়তে পারে বিদ্যুৎ উৎপাদন, জ্বালানি সরবরাহ এবং নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পাওনা দীর্ঘদিন আটকে থাকলে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার পুরো শৃঙ্খলেই অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, সরকার একদিকে বকেয়া পরিশোধের চেষ্টা করছে, অন্যদিকে বিদ্যুৎ খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুবিদ্যুৎ, বর্জ্য ও পানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভবনের ছাদে সোলার প্যানেল বসানোর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, ডাকবাংলো, অডিটরিয়াম ও সিটি করপোরেশনের ভবনগুলোতে উৎপাদিত সৌরবিদ্যুৎ নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সমন্বয় করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকারের হিসাব অনুযায়ী, স্থানীয় সরকারের এসব ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ কার্যক্রম বিস্তৃত করা গেলে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয় সম্ভব হতে পারে।

তবে বিদ্যুৎ খাতের সামনে এখন মূল প্রশ্ন দুটি—একদিকে কীভাবে ৬০ হাজার কোটি টাকার পুরোনো বকেয়ার বোঝা সামাল দেওয়া হবে, অন্যদিকে ভবিষ্যতে যাতে একইভাবে দেনার পাহাড় তৈরি না হয়, তার জন্য কী ধরনের কার্যকর আর্থিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা হবে।

বিদ্যুৎ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য সেবা। তাই পুরোনো দেনার বোঝা শোধ করেও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং একই সঙ্গে তুলনামূলক সাশ্রয়ী ও টেকসই জ্বালানির দিকে এগিয়ে যাওয়াই এখন সরকারের সবচেয়ে বড় পরীক্ষাগুলোর একটি।