সিলেট সংবাদ
সিলেটের পুরাতন কারাগার হবে নগরের ‘ফুসফুস’, হাসান মার্কেটে আধুনিক সুপার মার্কেট
সিলেট প্রতিনিধি, ২৬ আগস্ট:
সিলেট নগরের প্রাণকেন্দ্রে থাকা পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারের জায়গায় গড়ে উঠতে যাচ্ছে একটি বড় পরিসরের পার্ক। নগরবাসীর হাঁটা-চলা ও বিনোদনের সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি জায়গাটিকে সিলেট নগরের ‘ফুসফুস’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন সিলেট-১ আসনের এমপি ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
গতকাল সিলেটের একটি অনুষ্ঠানে তিনি এ পরিকল্পনার কথা জানান। মন্ত্রী বলেন, নগরের মানুষের জন্য উন্মুক্ত পরিবেশ তৈরি এবং হাঁটা-চলার সুযোগ বাড়াতেই পুরাতন কারাগারের জায়গাটি পার্ক হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর দৃশ্যমান কার্যক্রম শিগগিরই দেখা যাবে বলেও জানান তিনি।
সিলেট নগরের একেবারে কেন্দ্রে অবস্থিত পুরাতন কারাগারটি একসময় বন্দিদের জন্য ব্যবহৃত হলেও শহরতলীর বাদাঘাটে নতুন কারাগার নির্মাণের পর সেখানে বন্দি স্থানান্তর করা হয়। তখন পুরাতন কারাগারের জায়গায় পার্ক নির্মাণের ঘোষণা এলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। পরে জায়গাটি আবারও কারাগার হিসেবে ব্যবহার শুরু হয়। বর্তমানে সিলেট মেট্রোপলিটন এলাকার আসামিদের সেখানে রাখা হচ্ছে। জেলার ১৩ উপজেলার আসামিদের রাখা হয় বাদাঘাটের নতুন কারাগারে।
পুরাতন কারাগারের পাশেই রয়েছে ধোপাদিঘী। সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র থাকাকালে বর্তমান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ধোপাদিঘীর চারপাশে ওয়াকওয়ে নির্মাণ করেন। এরপর থেকে বিকেল হলেই ওই এলাকায় নগরবাসীর ভিড় বাড়ে। নতুন পার্ক হলে ধোপাদিঘীর ওয়াকওয়ের সঙ্গে পুরো এলাকাটি নগরবাসীর জন্য আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে নগরের আরেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হাসান মার্কেট নিয়েও নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশন। ঐতিহ্যবাহী পুরাতন মার্কেটটি ভেঙে সেখানে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন একটি সুপার মার্কেট নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত মার্কেটে থাকবে আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিংসহ বিভিন্ন আধুনিক সুবিধা।
সোমবার সন্ধ্যায় হাসান মার্কেটের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী এ পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, নগরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত এলাকায় মার্কেটটির অবস্থান হওয়ায় নতুন ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তাকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে দ্রুত নির্মাণকাজের দিকে এগিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তবে নতুন মার্কেট নির্মাণের ক্ষেত্রে বর্তমান ব্যবসায়ীদের স্বার্থও বিবেচনায় রাখা হবে বলে জানিয়েছেন সিসিক প্রশাসক। ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে মার্কেট পুনর্নির্মাণের অপেক্ষায় রয়েছেন।
হাসান মার্কেট ঘিরে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ অবশ্য এবারই প্রথম নয়। সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের সময় সেখানে বহুতল মার্কেট নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। নিচতলার ব্যবসায়ীদের অবস্থান ঠিক রেখে ওপরের অংশে দোকান বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনাও ছিল। ব্যবসায়ীদের দাবি, সে সময় সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে অনেকের কাছে দোকানের পজিশন বিক্রিও করা হয়। কিন্তু মার্কেট ভাঙা ও নতুন ভবন নির্মাণ না হওয়ায় সেই উদ্যোগ আর বাস্তবায়িত হয়নি।
পরবর্তীতে সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সময়ও মার্কেটটি নতুন করে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেটিও শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। আগের সরকারের সময় হাসান মার্কেট, সিটি করপোরেশনের মালিকানাধীন মিউনিসিপ্যালিটি মার্কেটসহ পুরো এলাকাকে ঘিরে আধুনিক মার্কেট ও কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনাও করা হয়েছিল। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন ওই এলাকায় বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স নির্মাণের কথা জানিয়েছিলেন। কয়েক দফা বৈঠক হলেও সেই পরিকল্পনাও বাস্তবায়িত হয়নি।

এবার পুরাতন কারাগারের জায়গায় পার্ক এবং হাসান মার্কেট এলাকায় আধুনিক মার্কেট নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সিলেট নগরের কেন্দ্রীয় অংশে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে কারাগারের বিশাল জায়গা উন্মুক্ত করে পার্ক নির্মাণ এবং হাসান মার্কেটে আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিং চালু হলে নগরের পরিবেশ ও যানজট ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন নগরবাসী।
তবে ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা—দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা যেন এবার আর ঘোষণা আর বৈঠকের মধ্যে আটকে না থাকে। দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে নগরের সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের স্বার্থও যেন সুরক্ষিত রাখা হয়।