ইউরোপ সংবাদ

ইউরোপের নিরাপত্তায় নতুন সমীকরণ, ব্রিটেনের পারমাণবিক কর্মসূচিতে অর্থ দিতে পারে জার্মানি

ইউরোপের নিরাপত্তায় নতুন সমীকরণ, ব্রিটেনের পারমাণবিক কর্মসূচিতে অর্থ দিতে পারে জার্মানি

ইউরোপ ডেস্ক, ২৭ আগস্ট:

ইউরোপের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষার দীর্ঘদিনের নির্ভরতা কমাতে এবার ব্রিটেনের পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে অর্থায়নের বিষয়টি নিয়ে জার্মানির সঙ্গে আলোচনা চলছে।

ব্রিটেনের পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু Trident। এর আওতায় থাকা পারমাণবিক সাবমেরিন ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো ব্রিটেনের জাতীয় নিরাপত্তার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। Telegraph-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপের নিরাপত্তা কাঠামোয় পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে জার্মানি এই কর্মসূচিতে আর্থিকভাবে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছে।

রাশিয়ার সঙ্গে ইউরোপের দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা নীতিতে সম্ভাব্য পরিবর্তন—দুই কারণেই ইউরোপীয় দেশগুলো নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে এগোচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে ব্রিটেনের পারমাণবিক সক্ষমতাকে শুধু ব্রিটিশ নিরাপত্তার বিষয় হিসেবে না দেখে বৃহত্তর ইউরোপীয় প্রতিরক্ষার অংশ হিসেবে বিবেচনার আলোচনা সামনে আসছে।

এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ইউরোপের প্রতিরক্ষা রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটতে পারে। এতদিন পারমাণবিক প্রতিরোধের ক্ষেত্রে ব্রিটেন ও ফ্রান্স ছিল ইউরোপের প্রধান শক্তি। জার্মানির মতো একটি অর্থনৈতিক পরাশক্তি যদি ব্রিটিশ পারমাণবিক কর্মসূচিতে আর্থিকভাবে অংশ নেয়, তাহলে ইউরোপের যৌথ নিরাপত্তা কাঠামো আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

তবে এর সঙ্গে রাজনৈতিক ও কৌশলগত প্রশ্নও রয়েছে। জার্মানি নিজে পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ নয়। ফলে ব্রিটেনের পারমাণবিক কর্মসূচিতে অর্থায়ন করলে ভবিষ্যতে ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা সিদ্ধান্ত গ্রহণে বার্লিনের ভূমিকা কতটা বাড়বে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠবে।

বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে, বিষয়টি শুধু অর্থের নয়—এটি ইউরোপের নিরাপত্তা দর্শনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যে ইউরোপীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা মূলত মার্কিন সামরিক শক্তির ওপর নির্ভরশীল ছিল, তা এখন ধীরে ধীরে নিজেদের সক্ষমতার ওপর দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে।

বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধের পর ইউরোপে এই উপলব্ধি জোরালো হয়েছে যে, ভবিষ্যতের নিরাপত্তা সংকটে শুধু ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভর করে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

ব্রিটেনের Trident কর্মসূচিতে জার্মানির সম্ভাব্য অর্থায়ন তাই নিছক একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি নয়। এর মধ্য দিয়ে ইউরোপের ক্ষমতার ভারসাম্য, ব্রিটেনের ভূমিকা এবং যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর নিরাপত্তা কাঠামোর ভবিষ্যৎ—তিনটি বিষয়ই নতুন করে আলোচনায় আসতে পারে।

ভয়েস অব পিপল-এর বিশ্লেষণ:
ইউরোপ যদি সত্যিই নিজের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজের হাতে নিতে চায়, তাহলে এই আলোচনা তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হতে পারে। তবে পারমাণবিক শক্তিকে কেন্দ্র করে ইউরোপীয় ঐক্য যতটা কৌশলগতভাবে শক্তিশালী হতে পারে, ততটাই এটি রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল। আগামী দিনে এই উদ্যোগ কতদূর এগোয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।