বিশ্ব সংবাদ
রাশিয়ায় গ্যাস পাইপ বিস্ফোরণ: আহত ৩৫ বাংলাদেশী, এখনো নিখোঁজ একজন
বিশ্ব সংবাদ ডেস্ক, ২৭ আগস্ট:
রাশিয়ার আমুর অঞ্চলে গ্যাস পাইপলাইনে ভয়াবহ বিস্ফোরণে ৩৫ বাংলাদেশী কর্মী আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নিখোঁজ দুই বাংলাদেশীর একজনকে উদ্ধার করা গেলেও অপর একজনের সন্ধান এখনো মেলেনি। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছে মস্কোয় বাংলাদেশ দূতাবাস।
গত ২৫ আগস্ট স্থানীয় সময় দুপুর আড়াইটার দিকে আমুর গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্স (এজিসিসি) প্রকল্পের প্লান্ট-৪ ও প্লান্ট-১০ এলাকায় পরীক্ষামূলক কাজ চলার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, পরীক্ষার সময় একটি পাইপ ফেটে আগুন ধরে যায়। এরপরই ঘটে বড় ধরনের বিস্ফোরণ।
দূর্ঘটনায় বাংলাদেশী ছাড়াও রাশিয়া, চীন, নেপাল, আজারবাইজান, উজবেকিস্তান ও তাজিকিস্তানের কর্মীরা আহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে আহতের সংখ্যা প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন বলে দূতাবাসের প্রাথমিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দূতাবাস সূত্রে জানা যায়, প্লান্ট-১০এ কর্মরত ২৩ বাংলাদেশী কর্মীর মধ্যে ৯ জন বিস্ফোরণে আহত হয়েছেন। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। একই ঘটনায় ১২ বাংলাদেশী কর্মীকে নিরাপদে ডরমেটরিতে ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে।
সংকটাপন্ন দুই বাংলাদেশী কর্মীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রায় ৭ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দূরে মস্কোর একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে। তাদের চিকিৎসা ও স্থানান্তরের পুরো প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করছে বাংলাদেশ দূতাবাস।
এ ঘটনায় নিখোঁজ দুই বাংলাদেশী কর্মীর একজনকে পরে খুঁজে পাওয়া গেলেও অন্যজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তার সন্ধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে দূতাবাস।
দূর্ঘটনার পর থেকে প্রকল্পের কোম্পানি কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে মস্কোয় বাংলাদেশ দূতাবাস। আহত বাংলাদেশীদের চিকিৎসা, নিখোঁজ কর্মীর সন্ধান এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে দূতাবাস।
এজিসিসি প্রকল্পে বাংলাদেশী কর্মীদের উপস্থিতিও কম নয়। দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির প্রকল্পে প্রায় ২ হাজার ৫০০ বাংলাদেশী কর্মী যোগ দেন। প্রকল্পটি এখন শেষ পর্যায়ে থাকায় প্লান্ট-৪ ও প্লান্ট-১০ এলাকায় বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৬০০ কর্মী কাজ করছেন।
রাশিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলে বড় শিল্প প্রকল্পে কাজ করা বাংলাদেশী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে এ দুর্ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে গ্যাস ও রাসায়নিক শিল্পের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, জরুরি উদ্ধার পরিকল্পনা এবং বিদেশি শ্রমিকদের সুরক্ষা কতটা কার্যকর—তা খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।
তবে বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ এবং নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। দুর্ঘটনার পর এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগ আহতদের চিকিৎসা এবং নিখোঁজ বাংলাদেশী কর্মীর সন্ধান।