তথ্যনির্ভর ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের জন্য—ভয়েস অব পিপল

গাজার ধ্বংসস্তূপে ৬ কোটি ১০ লাখ টন ধ্বংসাবশেষ, চাপা পড়ে থাকতে পারে ১০ হাজার মরদেহ

গাজার ধ্বংসস্তূপে ৬ কোটি ১০ লাখ টন ধ্বংসাবশেষ, চাপা পড়ে থাকতে পারে ১০ হাজার মরদেহ

বিশ্ব সংবাদ ডেস্ক, ২৭ সেপ্টেম্বর:

গাজায় যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ সরানো এখন শুধু পুনর্গঠনের কাজ নয়—এটি হয়ে উঠেছে চাপা পড়ে থাকা মানুষের মরদেহ উদ্ধারের এক ভয়াবহ মানবিক অভিযান। জাতিসংঘের হিসাবে, পুরো গাজাজুড়ে জমে থাকা ধ্বংসাবশেষের পরিমাণ প্রায় ৬ কোটি ১০ লাখ টন। এর নিচে প্রায় ১০ হাজার মরদেহ পড়ে থাকতে পারে বলে জানিয়েছে গাজার সিভিল ডিফেন্স।

গাজার তেল আল-হাওয়া এলাকায় একটি সড়কের সামান্য অংশ পরিষ্কার করতেই উদ্ধারকর্মীদের পুরো দিন লেগে যাচ্ছে। জাতিসংঘের প্রকৌশলী আহমেদ আলিয়ান পরিস্থিতিকে তুলনা করেছেন সমুদ্র খালি করার জন্য চামচ ব্যবহারের সঙ্গে। ধ্বংসস্তূপের নিচে শুধু কংক্রিট ও ইস্পাত নয়, রয়েছে মানুষের দেহাবশেষ এবং অবিস্ফোরিত বোমাও।

সমস্যার বড় অংশ হলো প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতির অভাব। গাজার সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, তাদের অধিকাংশ সরঞ্জাম নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে অনেক জায়গায় উদ্ধারকর্মীদের সীমিত যন্ত্রপাতি, হাতুড়ি-শাবল এমনকি খালি হাতেও কাজ করতে হচ্ছে। জানুয়ারি ২০২৬-এ গাজার সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক জানান, প্রায় ১০ হাজার মরদেহ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকতে পারে।

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, এই বিপুল ধ্বংসাবশেষ সরাতে কমপক্ষে সাত থেকে দশ বছর সময় লাগতে পারে এবং প্রয়োজন হবে বিপুল অর্থ ও ভারী যন্ত্রপাতির। একই সঙ্গে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে থাকা বিস্ফোরক, দূষিত উপাদান ও ক্ষতিগ্রস্ত ভবন উদ্ধারকাজকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।

এই পরিস্থিতিতে অনেক পরিবারের কাছে যুদ্ধ শেষ হওয়া মানেই অপেক্ষার শেষ নয়। স্বজনের মরদেহ কোথায় পড়ে আছে, তা জানা থাকলেও সেটি উদ্ধার করে দাফন করার সুযোগ মিলছে না। ফলে ধ্বংসস্তূপ সরানোর প্রতিটি ধাপ একই সঙ্গে হয়ে উঠছে পুনর্গঠন, উদ্ধার এবং বহু পরিবারের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসানের চেষ্টা।

গাজার এই অভিযানকে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো আধুনিক সময়ের অন্যতম বৃহৎ ধ্বংসাবশেষ অপসারণ কার্যক্রম হিসেবে দেখছে।