লন্ডনে উগ্র ডানপন্থার বিরুদ্ধে নজিরবিহীন বহুসাংস্কৃতিক বিক্ষোভ, রাস্তায় হাজারো মানুষের ঢল
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ২৮ মার্চ:
উগ্র ডানপন্থার রাজনীতির বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বহুসাংস্কৃতিক বিক্ষোভে লন্ডনের রাজপথে নেমেছেন হাজারো মানুষ। আয়োজকদের দাবি, “টুগেদার অ্যালায়েন্স”–এর এই পদযাত্রায় প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ রাজধানীতে জড়ো হন। যদিও পুলিশ উপস্থিতি প্রায় ৫০ হাজারের কাছাকাছি বলে ধারণা দিয়েছে, তবে জনতার ব্যাপক বিস্তৃতি থাকায় সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ কঠিন বলেও স্বীকার করেছে তারা।
পার্ক লেন থেকে শুরু হয়ে শতাধিক দাতব্য সংস্থা, সামাজিক আন্দোলন সংগঠন এবং ট্রেড ইউনিয়নের অংশগ্রহণে এই মিছিল হোয়াইটহল হয়ে ট্রাফালগার স্কয়ারে গিয়ে শেষ হয়। মূল লক্ষ্য ছিল উগ্র ডানপন্থী রাজনীতির বিরুদ্ধে ঐক্য প্রদর্শন।
এই বিক্ষোভটি মূলত গত সেপ্টেম্বর মাসে টমি রবিনসনের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত “ইউনাইট দ্য কিংডম” সমাবেশের প্রতিক্রিয়া হিসেবে আয়োজিত হয়, যেখানে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার মানুষ অংশ নিয়েছিল।
বিক্ষোভে অংশ নেন বিভিন্ন অঙ্গনের তারকারাও। অভিনেতা ক্রিস্টোফার একলেস্টন, ডেভিড হেয়ারউড, লেনি হেনরি, স্টিভ কুগানসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি সংগীতশিল্পী পালোমা ফেইথ, শার্লট চার্চ, ব্রায়ান এনো এবং বেভারলি নাইটসহ অনেকেই সমর্থন জানান।
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ডজনখানেক বাসে করে মানুষ লন্ডনে আসেন। শুধু ম্যানচেস্টার থেকেই অন্তত ১০টি বাস বিক্ষোভে অংশ নেয়।
বিক্ষোভে সংগীত পরিবেশন করেন সেলফ এস্টিম, জেসি ওয়্যার, কেটি বি, জয় ক্রুকস, ইউবি৪০ ও হট চিপের মতো শিল্পীরা, যা আন্দোলনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
সমাবেশে বক্তৃতা দেন লেবার পার্টির এমপি ডায়ান অ্যাবট এবং গ্রিন পার্টির নেতা জ্যাক পোলানস্কি। পোলানস্কি উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ করে বলেন, “নিজ নিজ কমিউনিটিতে ফিরে গিয়ে সংগঠিত হোন। স্থানীয় নির্বাচন সামনে—এটাই পরিবর্তনের সময়।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা ঘৃণাকে পরাজিত করব। এখনই সময় আশাকে আবার স্বাভাবিক করে তোলার।”
বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে অনেকেই ভিন্নধর্মী পোশাক পরে আসেন। কেউ যিশুর বেশে, কেউ বা মৃত্যুদূতের প্রতীকী সাজে উপস্থিত হন। পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর উপস্থিতিও ছিল লক্ষণীয়। একদল কর্মী জীবাশ্ম জ্বালানির বিরুদ্ধে বার্তা দিতে ‘গ্রিম রিপার’ সেজে অংশ নেন।
একই দিনে লন্ডনের নিউ স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের সামনে ফিলিস্তিনপন্থী একটি বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করে মেট্রোপলিটন পুলিশ। এর কয়েকদিন আগে আদালতের এক রায়ের পর এই ধরনের গ্রেপ্তার সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও, আপিল প্রক্রিয়া চলমান থাকায় আবারও কঠোর অবস্থানে ফিরেছে পুলিশ।