তথ্যনির্ভর ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের জন্য—ভয়েস অব পিপল
যুক্তরাজ্যের বাজেটে ২ কোটি পরিবারের জন্য ১০০ পাউন্ড জ্বালানি সহায়তা, গ্যাসের স্থায়ী চার্জও বাতিল
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ২৮ অক্টোবর :
যুক্তরাজ্যের নতুন বাজেটে জ্বালানি ব্যয়ে পরিবারগুলোর চাপ কমাতে কাউন্সিল ট্যাক্সের এ থেকে ডি ব্যান্ডের বাড়িতে বসবাসকারী প্রায় ২ কোটি পরিবারের জন্য ১০০ পাউন্ড করে সহায়তা ঘোষণা করেছেন চ্যান্সেলর জন হিলি। একই সঙ্গে গ্যাসের বিলে স্থায়ী দৈনিক চার্জ বাতিল, ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ওপর করের পরিবর্তনসহ একাধিক পদক্ষেপ ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সরকারের প্রথম বাজেট বুধবার ২৮ অক্টোবর হাউস অব কমন্সে উপস্থাপন করেন চ্যান্সেলর। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, উচ্চ ঋণব্যয় এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মন্থর হওয়ার আশঙ্কার মধ্যে পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে কিছুটা স্বস্তি দেওয়াই বাজেটের অন্যতম লক্ষ্য।
২০ লাখ নয়, ২ কোটি পরিবার পাবে ১০০ পাউন্ড
বাজেটের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ঘোষণা হলো, চলতি শীতে কাউন্সিল ট্যাক্সের এ থেকে ডি ব্যান্ডের বাড়িতে বসবাসকারী প্রায় ২ কোটি পরিবারকে ১০০ পাউন্ডের জ্বালানি সহায়তা দেওয়া হবে। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, জ্বালানির বাড়তি ব্যয়ের চাপ সামলাতে পরিবারগুলোকে সহায়তা করতেই এ উদ্যোগ।
তবে সহায়তা পাওয়ার যোগ্যতা ও অর্থ প্রদানের পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত সরকারি নির্দেশনা দেখে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
গ্যাসের বিলে স্থায়ী চার্জ বাতিল
গ্যাস সংযোগ চালু রাখার জন্য গ্রাহকদের যে নির্দিষ্ট দৈনিক চার্জ দিতে হয়, তা বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের হিসাবে, ২০২৭ সালে অথবা যত দ্রুত সম্ভব এই পরিবর্তন কার্যকর করার জন্য জ্বালানি নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফজেমকে পদক্ষেপ নিতে বলা হবে।
বর্তমানে একটি সাধারণ পরিবারের গ্যাসের স্থায়ী চার্জ বছরে গড়ে ১০৮ পাউন্ড। এই চার্জ বাতিল করে সংশ্লিষ্ট ব্যয় গ্যাস ব্যবহারের ইউনিটপ্রতি দামের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। সরকারের হিসাবে, প্রায় ৬০ শতাংশ পরিবারের বছরে গড়ে ৪৫ পাউন্ড সাশ্রয় হতে পারে।
অর্থাৎ, সবার বিল একই পরিমাণ কমবে না। গ্যাস ব্যবহারের পরিমাণ ও ট্যারিফ অনুযায়ী প্রকৃত সাশ্রয় নির্ধারিত হবে।
ন্যূনতম মজুরি বাড়ছে ৩.৯ শতাংশ
বাজেটে ন্যূনতম মজুরি ৩.৯ শতাংশ বাড়ানোর কথা নিশ্চিত করা হয়েছে। এর ফলে জাতীয় লিভিং ওয়েজ ঘণ্টায় ১৩.২১ পাউন্ড এবং ১৮ থেকে ২০ বছর বয়সীদের ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টায় ১১.২৭ পাউন্ডে উন্নীত হবে।
এই বৃদ্ধি কম বেতনে কাজ করা কর্মীদের আয় বাড়াতে সহায়তা করবে। তবে মজুরি বৃদ্ধির ফলে প্রত্যেক কর্মীর হাতে পাওয়া অর্থ কতটা বাড়বে, তা কাজের ঘণ্টা, কর ও অন্যান্য কর্তনের ওপর নির্ভর করবে।
ব্যাংকের ওপর কর বাড়ছে
বাজেটে ব্যাংকের ওপর আরোপিত সারচার্জ ৩ শতাংশ পয়েন্ট বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তবে নতুন হারটি মাত্র ১৫ মাসের জন্য কার্যকর রাখার কথা জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া ক্ষুদ্র ব্যবসার করসংক্রান্ত সীমা বাড়ানো এবং অন্য কিছু ব্যবসার জন্য ব্যবসায়িক করের হার বাস্তব হিসাবে স্থিতিশীল রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনলাইন মার্কেটপ্লেস ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে বাড়তি রাজস্ব সংগ্রহের মাধ্যমে পরিবারের জন্য সহায়তার অর্থ জোগানোর পরিকল্পনাও বাজেটের আলোচনায় রয়েছে।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমেছে
যুক্তরাজ্যের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি নিয়ে বাজেটে সতর্ক পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। অফিস ফর বাজেট রেসপনসিবিলিটির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ১.২ শতাংশ হতে পারে। তবে ২০২৭ সালের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস আগের ১.৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানিবাজারের অস্থিরতা, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং ঋণের সুদ পরিশোধের ব্যয় অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। সরকারকে তাই একদিকে পরিবারকে সহায়তা দিতে হচ্ছে, অন্যদিকে সরকারি অর্থের ওপর চাপও সামলাতে হচ্ছে।
বাজেটে সরকারি পরিষেবার দৈনন্দিন ব্যয়ের জন্য বছরে অতিরিক্ত ৪০ বিলিয়ন পাউন্ডের সংস্থান করার কথাও জানানো হয়েছে।
ইউনিভার্সাল ক্রেডিট নিয়ে কী জানা গেল?
ইউনিভার্সাল ক্রেডিটের মূল ভাতা এপ্রিল ২০২৭ থেকে প্রায় ৪.৩ শতাংশ বাড়তে পারে বলে যে হিসাব প্রকাশিত হয়েছে, সেটিকে আজকের বাজেটের নতুন ঘোষণা হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। এই বৃদ্ধির ভিত্তি আগে থেকেই নির্ধারিত আইনি ব্যবস্থার সঙ্গে মূল্যস্ফীতির হিসাবের সম্পর্কিত।
বাজেটে ইউনিভার্সাল ক্রেডিটের সব উপাদান, বাড়িভাড়ার সহায়তা, সন্তানসংক্রান্ত অর্থ কিংবা স্বাস্থ্যগত উপাদানের ক্ষেত্রে নতুন কোনো পরিবর্তন ঘোষণা করা হয়েছে কি না, তা চূড়ান্ত সরকারি নথি থেকে আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
পরিবারের জন্য বাজেটের তাৎপর্য
নতুন বাজেটে জ্বালানি সহায়তা ও গ্যাসের স্থায়ী চার্জ বাতিলের উদ্যোগ নিম্ন ও মধ্যম আয়ের বহু পরিবারের জন্য কিছুটা স্বস্তি আনতে পারে। ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধিও কর্মজীবী মানুষের আয়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে মূল্যস্ফীতি, বাড়িভাড়া, খাদ্যব্যয় এবং ঋণের খরচ বেশি থাকলে এসব পদক্ষেপের ফলে পরিবারের সামগ্রিক আর্থিক চাপ কতটা কমবে, তা বাস্তবায়নের পরই স্পষ্ট হবে।