তথ্যনির্ভর ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের জন্য—ভয়েস অব পিপল

ইসরায়েলের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাল দুই জোট, সরকার গঠনে নির্ধারক হতে পারে আরব দল

ইসরায়েলের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাল দুই জোট, সরকার গঠনে নির্ধারক হতে পারে আরব দল

ভয়েস অব পিপল, ২৮ অক্টোবর :

ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট এবং সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট—কেউই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারেনি। ফলে দেশটিতে সরকার গঠন নিয়ে কয়েক সপ্তাহের রাজনৈতিক দর-কষাকষির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সর্বশেষ হালনাগাদ অনুযায়ী, প্রায় ৭০ শতাংশ ভোট গণনার পর নেতানিয়াহুর জোট ৫৪টি আসন, আইজেনকোটের বিরোধী জোট ৪৭টি এবং ফিলিস্তিনি আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসন পেতে পারে বলে প্রক্ষেপণ করা হয়েছে। তবে এগুলো প্রাথমিক হিসাব, চূড়ান্ত ফলাফল নয়। ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন।

আরব দলগুলোর উত্থান

এবারের নির্বাচনে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ইসরায়েলি নাগরিকদের ভোটদান বেড়েছে। মোট ভোটারের ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট দিয়েছেন, যা ১৯৯৯ সালের পর সর্বোচ্চ বলে ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি জানিয়েছে।

আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সম্ভাব্য ১৭ থেকে ১৯টি আসন সরকার গঠনের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু নেতানিয়াহু ও আইজেনকোট—দুজনই আরব দলগুলোর ওপর নির্ভর করে সরকার গঠনের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। ফলে বিরোধী জোটের সামনে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতার বাইরে রাখার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সংসদীয় সমর্থন জোগাড়ের চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

নেতানিয়াহু ও আইজেনকোটের পাল্টাপাল্টি দাবি

নেতানিয়াহু শক্তিশালী ডানপন্থী সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, আইজেনকোটের দাবি, ভোটাররা নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন। তবে প্রাথমিক ফলাফলে কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গঠনের অবস্থানে নেই।

নির্বাচনটি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা এবং পরবর্তী গাজা ও আঞ্চলিক যুদ্ধের পর প্রথম জাতীয় নির্বাচন। নিরাপত্তাব্যবস্থা, যুদ্ধ পরিচালনা এবং সরকারের নেতৃত্ব ছিল নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

এখন কী হবে

চূড়ান্ত ফলাফলের পর প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ সরকার গঠনের জন্য উপযুক্ত প্রার্থীকে দায়িত্ব দেবেন। মনোনীত প্রার্থী সাধারণত ২৮ দিনের মধ্যে সরকার গঠনের চেষ্টা করবেন; প্রয়োজনে আরও ১৪ দিন সময় পেতে পারেন। কেউ সফল না হলে নতুন নির্বাচনের সম্ভাবনাও তৈরি হবে।

ভয়েস অব পিপল এর বিশ্লেষণ: নির্বাচনের ফলাফল এখন পর্যন্ত নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় থাকা কিংবা আইজেনকোটের সরকার গঠন—কোনোটিই নিশ্চিত করছে না। আরব দলগুলোর আসন বৃদ্ধি এবং প্রধান দুই জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থতা ইসরায়েলের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। শেষ পর্যন্ত কে সরকার গঠন করবেন, তা নির্ভর করবে জোটের সমঝোতা ও সংসদীয় সমর্থনের ওপর।