পৃথিবীর ঘূর্ণন থেকেই বিদ্যুৎ উৎপাদন ! পরীক্ষাগারে সফল মার্কিন বিজ্ঞানীরা

পৃথিবীর ঘূর্ণন থেকেই বিদ্যুৎ উৎপাদন ! পরীক্ষাগারে সফল মার্কিন বিজ্ঞানীরা

তথ্য কণিকা ডেস্ক, ২৮ ডিসেম্বর :  বিদ্যুৎ উৎপাদনের নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে পৃথিবীর নিজস্ব ঘূর্ণন। আমেরিকার একদল বিজ্ঞানী পরীক্ষাগারে পৃথিবীর ঘূর্ণন গতি এবং তার চৌম্বক ক্ষেত্র ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সাফল্য পেয়েছেন। নিউ জার্সিতে নাসার একটি গবেষণাগারে এই পরীক্ষা চালানো হয়।
গবেষণার নেতৃত্বে ছিলেন প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্পদার্থবিদ ক্রিস্টোফার এফ চাইবা। গবেষণায় দেখানো হয়েছে, পৃথিবীর আহ্নিক বা আবর্তন গতি এবং ভূ-চৌম্বকীয় ক্ষেত্রকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব—যা এত দিন কেবল তাত্ত্বিক পর্যায়েই সীমাবদ্ধ ছিল।

বিজ্ঞানীরা বিশেষ নকশার একটি পরিবাহী যন্ত্র ব্যবহার করেন। এক ফুট লম্বা ফাঁপা সিলিন্ডারটি তৈরি করা হয় ম্যাঙ্গানিজ়-জ়িঙ্ক ফেরাইট দিয়ে, যা বিদ্যুতের দুর্বল পরিবাহী হলেও চৌম্বক ক্ষেত্রে অত্যন্ত সংবেদনশীল। সিলিন্ডারটিকে উত্তর-দক্ষিণমুখী রেখে পৃথিবীর অক্ষের মতো প্রায় ৫৭ ডিগ্রি কোণে স্থাপন করা হয়। পৃথিবীর ঘূর্ণনের সঙ্গে সঙ্গে যন্ত্রটির দুই প্রান্তে ধারাবাহিক ভাবে কয়েক লক্ষ মাইক্রোভোল্ট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়, যা সফলভাবে পরিমাপও করা সম্ভব হয়েছে।

একই উপাদানে তৈরি পূর্ণ (ভর্তি) সিলিন্ডার দিয়ে পরীক্ষা চালানো হলেও সেখানে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়নি। গবেষকদের মতে, সিলিন্ডারের ফাঁপা গঠনই এখানে মূল ভূমিকা নিয়েছে। এর ফলে প্রচলিত তড়িৎচৌম্বকীয় সূত্রে যে সীমাবদ্ধতা ছিল, তা আংশিক ভাবে অতিক্রম করা সম্ভব হয়েছে।
যদিও পরীক্ষাগারে উৎপন্ন বিদ্যুতের পরিমাণ বর্তমানে ব্যবহারযোগ্য পর্যায়ের নয়, তবু গবেষকদের দাবি—এই প্রযুক্তিকে উন্নত করা গেলে ভবিষ্যতে শক্তি উৎপাদনে বিপ্লব ঘটতে পারে। সূর্য, বাতাস বা জলের মতো প্রাকৃতিক উৎসের পাশাপাশি পৃথিবীর ঘূর্ণনও এক দিন নিরবচ্ছিন্ন ও দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুতের উৎস হয়ে উঠতে পারে।
বিজ্ঞানীদের মতে, যত দিন পৃথিবীর অস্তিত্ব থাকবে, তত দিন এই শক্তির উৎসও থাকবে। ফলে এই গবেষণা ভবিষ্যতের শক্তি-নির্ভর বিশ্বে এক নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।