ফ্যাসিবাদীদের পুনর্বাসনের অভিযোগে হবিগঞ্জে এনসিপির ১৩ নেতা একযোগে পদত্যাগ

ফ্যাসিবাদীদের পুনর্বাসনের অভিযোগে হবিগঞ্জে এনসিপির ১৩ নেতা একযোগে পদত্যাগ

সিলেট প্রতিনিধি, ২৯ জানুয়ারি:  ফ্যাসিবাদী শক্তির পুনর্বাসন, জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাদের বঞ্চিত করা এবং দলের আদর্শিক অবস্থান থেকে সরে যাওয়ার অভিযোগ তুলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) হবিগঞ্জ জেলা শাখার ১৩ জন নেতা একসঙ্গে পদত্যাগ করেছেন।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার দিকে হবিগঞ্জ শহরের বেবিস্ট্যান্ড এলাকায় দলের একাংশের অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তারা এ পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

পদত্যাগকারী নেতারা হলেন—এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব পলাশ মাহমুদ, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নূরুল হক টিপু, অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল ওয়াহিদ মনির, যুগ্ম সদস্যসচিব সিরাজুল হক সজিব, শেখ রুবেল আহমেদ, সালমা হাসান, সঞ্জয় দাশ, সদস্য মো. হারুন মিয়া, মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ, অ্যাডভোকেট মো. জসিম উদ্দিন, এএইচএম শফিউল আলম খান, মো. জাহিদ মিয়া ও সোফায়েল আহমেদ।

সংবাদ সম্মেলনে সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব পলাশ মাহমুদ বলেন, ১৩ জনের পদত্যাগপত্র জেলা কমিটির মাধ্যমে ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, হতাশা থেকেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার ভাষায়, “আপাতত বাংলাদেশে মধ্যপন্থার রাজনীতি করে এমন কোনো দল আছে বলে মনে হয় না। তবে এনসিপি যদি ভুল সংশোধন করে অথবা নতুন করে এমন কোনো মধ্যমপন্থার দল গড়ে ওঠে, যারা একাত্তর ও চব্বিশ উভয়কে ধারণ করবে, তাহলে সেই দলে যুক্ত হওয়ার কথা ভাবা হবে। অন্যথায় একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবেই থাকতে চাই আমরা।”

সংবাদ সম্মেলনে নেতারা অভিযোগ করেন, হবিগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় কমিটি গঠনের সময় ফ্যাসিবাদী শক্তি ও তাদের দোসরদের পুনর্বাসন করা হয়েছে এবং পরিকল্পিতভাবে জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাদের বাদ দেওয়া হয়েছে। মধ্যপন্থার রাজনীতির লক্ষ্য নিয়ে এনসিপি যাত্রা শুরু করলেও কেন্দ্রীয় কমিটি সেই অবস্থান থেকে সরে এসে মাত্র দুই মাসের মধ্যে দুটি জোটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

এ ছাড়া দলের উপদেষ্টাসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়। প্রার্থী মনোনয়ন নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন পদত্যাগকারীরা। তাদের দাবি, মনোনীত প্রার্থীদের পক্ষে জুলাই যোদ্ধারা কাজ করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।

নেতাদের অভিযোগ, কমিটিতে অনুগত শ্রেণি তৈরির উদ্দেশ্যে তৃণমূল পর্যায়ের জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত অনেক নেতাকর্মীকে বাদ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সাংগঠনিক কার্যক্রমে জেলা কমিটি চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে বলেও তারা জানান।

এই ঘটনাকে ঘিরে হবিগঞ্জে এনসিপির অভ্যন্তরীণ সংকট আরও স্পষ্ট হলো বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।