আমেরিকার টাইমস ম্যাগাজিনের বিশেষ প্রতিবেদন: তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির প্রতি ৭০ শতাংশ জনসমর্থন

আমেরিকার টাইমস ম্যাগাজিনের বিশেষ প্রতিবেদন: তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির প্রতি ৭০ শতাংশ জনসমর্থন

ভয়েস অব পিপল লন্ডন, ২৯ জানুয়ারি: যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সাময়িকী টাইম-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। বুধবার টাইমের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এই সাক্ষাৎকারভিত্তিক প্রতিবেদনে তারেক রহমানের রাজনৈতিক দর্শন, দীর্ঘ নির্বাসন-পরবর্তী উপলব্ধি, সংস্কার ভাবনা এবং দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে তার পরিকল্পনার বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘ ১৭ বছর লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটানোর পর গত ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমান দেশে ফেরেন। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে ঢাকার রাজপথ পর্যন্ত লাখো মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ও উষ্ণ অভ্যর্থনা তার রাজনৈতিক জনপ্রিয়তার প্রতিফলন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। লন্ডনে থাকা অবস্থায় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক পরিসরে পরিচিতি গড়ে তোলা তারেক রহমান দেশে ফেরার পর এই প্রথম কোনো সংবাদমাধ্যমকে একান্ত সাক্ষাৎকার দিলেন টাইমকে।

মায়ের মৃত্যু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমার হৃদয় বড় বেশি দুঃখভারাক্রান্ত। কিন্তু মায়ের কাছ থেকেই আমি শিখেছি, যখন কোনো দায়িত্ব অর্পিত হয়, তখন তা অবশ্যই পালন করতে হবে।” প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, শোকের মধ্যেও তিনি রাজনৈতিক দায়িত্ব থেকে সরে যাননি।

টাইম তারেক রহমানকে একজন অন্তর্মুখী, স্বল্পভাষী কিন্তু তথ্যভিত্তিক ও পরিকল্পনামুখী রাজনীতিক হিসেবে বর্ণনা করেছে। আবেগের চেয়ে তথ্য-উপাত্ত ও সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপে বিশ্বাসী এই নেতা দেশের অর্থনীতি ও পরিবেশ রক্ষায় সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর রক্ষায় ১২ হাজার মাইল খাল খনন, ভূমি অবক্ষয় রোধে বছরে ৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, ঢাকার বায়ুদূষণ কমাতে ৫০টি নতুন সবুজ এলাকা তৈরি এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ তার এজেন্ডার অংশ। পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ শ্রমশক্তি গড়ে তোলা এবং বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে অংশীদারত্বে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, “যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের প্রতি আমাদের অত্যন্ত শক্তিশালী দায়বদ্ধতা রয়েছে। জনগণ যাতে তাদের রাজনৈতিক অধিকার ফিরে পান, সে জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “আমি যদি আমার পরিকল্পনার মাত্র ৩০ শতাংশও বাস্তবায়ন করতে পারি, আমি নিশ্চিত বাংলাদেশের মানুষ আমাকে সমর্থন করবেন।”

প্রতিবেদনে সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপের বরাতে জানানো হয়, বর্তমানে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপির প্রতি জনসমর্থন প্রায় ৭০ শতাংশ। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রধান ইসলামী দল জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন ১৯ শতাংশ। এই পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে টাইম তাকে আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে স্পষ্টভাবে এগিয়ে থাকা নেতা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

পারিবারিক উত্তরাধিকারের মাধ্যমে নেতৃত্বে আসা নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে তারেক রহমান বলেন, “আমি আমার বাবা-মায়ের সন্তান হওয়ার কারণে এখানে আসিনি। আমার দলের সমর্থকরাই হলো সেই কারণ, যাদের জন্য আমি আজ এখানে।”

২০০১-২০০৬ সময়কালের দুর্নীতির অভিযোগ ও পরবর্তী সময়ে দেওয়া দণ্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তারা কোনো কিছুই প্রমাণ করতে পারেনি।” প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তার বিরুদ্ধে থাকা দণ্ডগুলো ইতিমধ্যে বাতিল হয়েছে।

কারাগারে নির্যাতনের ফলে মেরুদণ্ডের স্থায়ী সমস্যার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, “খুব বেশি শীত পড়লে পিঠে ব্যথা বেড়ে যায়। তবে আমি একে জনগণের প্রতি আমার দায়বদ্ধতার স্মারক হিসেবে দেখি।”

টাইম তারেক রহমানকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ “সেতুবন্ধ” হিসেবে আখ্যায়িত করেছে—যিনি একদিকে রাজনৈতিক অভিজাত শ্রেণি, অন্যদিকে সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষার মধ্যে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করছেন। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও তাকে বাস্তববাদী ও কৌশলী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

প্রতিবেদনটির শেষাংশে স্পাইডারম্যান চলচ্চিত্রের বিখ্যাত উক্তি উদ্ধৃত করে তারেক রহমান বলেন, “বড় ক্ষমতার সঙ্গে আসে বড় দায়িত্ব।” জনগণের ম্যান্ডেট পেলে তিনি বাংলাদেশকে একটি স্থিতিশীল, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তথ্যসূত্র: টাইম সাময়িকীর অনলাইন সংস্করণ (বিশেষ সাক্ষাৎকারভিত্তিক প্রতিবেদন)