‘‘দেশ থেকে দেশান্তরে, ভয়েস অব পিপল সবার ঘরে’’
ব্রিটেনের বাংলাদেশি রন্ধনশিল্পে নারীদের নতুন উত্থান, শেফ অব দ্য ইয়ার প্রতিযোগিতায় ১১ নারী
কমিউনিটি ডেস্ক, ১ অক্টোবর : ব্রিটেনের বাংলাদেশি খাদ্য ও আতিথেয়তা শিল্পে নারীদের অংশগ্রহণ ক্রমেই বাড়ছে। এরই একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত দেখা গেল বাংলাদেশ ক্যাটারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএ) আয়োজিত ‘শেফ অব দ্য ইয়ার কুক-অফ ২০২৬’ প্রতিযোগিতায়। এবারের প্রতিযোগিতায় ১১ জন নারী শেফসহ মোট ৫৫ জন রন্ধনশিল্পী অংশ নিয়েছেন।
২৯ সেপ্টেম্বর পশ্চিম লন্ডনের হ্যামারস্মিথ অ্যান্ড ফুলহ্যাম কলেজে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় ব্রিটেনের বিভিন্ন স্থান থেকে শতাধিক আবেদন জমা পড়ে। সেখান থেকে বাছাই করে ৫৫ জন শেফকে চূড়ান্ত প্রতিযোগিতার জন্য নির্বাচিত করা হয়।
এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য ছিল— ‘আজকের সাফল্যকে সম্মান, আগামীর সাফল্যকে অনুপ্রেরণা।’ রান্নার দক্ষতা, সৃজনশীলতা এবং পেশাগত মানদণ্ডের ভিত্তিতে প্রতিযোগীদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
বিসিএ সভাপতি অলি খান এমবিই বলেন, শেফ অব দ্য ইয়ার প্রতিযোগিতা শুধু একটি রান্নার প্রতিযোগিতা নয়; এর মাধ্যমে রন্ধনশিল্পে নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে উৎসাহিত করার সুযোগ তৈরি হয়। বিশেষ করে ১১ জন নারী শেফের অংশগ্রহণকে তিনি ইতিবাচক পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিসিএ অ্যাওয়ার্ড আহ্বায়ক আতিক রহমান বিইএম জানান, শতাধিক আবেদনের মধ্য থেকে ৫৫ জনকে বাছাই করা সহজ ছিল না। প্রতি বছর প্রতিযোগিতার মান বাড়ছে এবং এবারের প্রতিযোগিতাতেও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পেশাগত দক্ষতা দেখা গেছে।
হ্যামারস্মিথ অ্যান্ড ফুলহ্যাম কলেজের আতিথেয়তা বিভাগের প্রধানও আয়োজক ও প্রতিযোগীদের স্বাগত জানান। রন্ধনশিল্পে পেশাগত প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বিকাশে কলেজটির দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এবারের প্রতিযোগিতার বিচারকার্যে রয়েছেন পাঁচজন বিশেষজ্ঞ—মাস্টার শেফ চানকা ফার্নান্দো, এসওয়াই মেহের, এনটিভির প্রধান নির্বাহী সুবরিনা হুসাইন, টোটাল ফুডের প্রধান নির্বাহী রেজাউর রহমান এবং সাবিনা ইসলাম রহমান।
প্রতিযোগিতায় সেরা শেফ ও পারফরমারদের আজ ১ নভেম্বর লন্ডনের পার্ক প্লাজা ওয়েস্টমিনস্টার ব্রিজ হোটেলে অনুষ্ঠিত বিসিএর বার্ষিক পুরস্কার অনুষ্ঠানে সম্মাননা দেওয়া হবে।
ব্রিটেনের বাংলাদেশি রেস্তোরাঁ ও আতিথেয়তা খাত দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে বাংলাদেশের খাদ্যসংস্কৃতিকে পরিচিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সেই শিল্পে নারী শেফদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ পেশাটির পরিবর্তিত চিত্রও তুলে ধরছে।