মার্কিন অস্ত্র সরবরাহে ধীরগতি: ব্রিটেনকে সতর্ক করল পেন্টাগন
ভয়েস অব পিপল | বিশ্ব সংবাদ ডেস্ক :
যুক্তরাষ্ট্র ব্রিটেনকে সতর্ক করে জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহে বড় ধরনের বিলম্ব দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহৃত বিভিন্ন মিসাইল সিস্টেম সরবরাহে এই ধীরগতির বিষয়টি স্বীকার করেছে পেন্টাগন, যা পশ্চিমা জোটের সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন জানায়, চলমান বৈশ্বিক উত্তেজনা, সরবরাহ চেইনের সংকট এবং উৎপাদন সীমাবদ্ধতার কারণে অস্ত্র সরবরাহের সময়সূচি পিছিয়ে যাচ্ছে। এতে শুধু ব্রিটেন নয়, ইউক্রেনসহ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য মিত্র দেশগুলোও প্রভাবিত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধের শুরু থেকেই পশ্চিমা দেশগুলো বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ করে আসছে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এই সরবরাহ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে এখন উৎপাদন সক্ষমতা ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ছে।
পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা বলেন, “আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে বাস্তবতা হলো, কিছু ক্ষেত্রে সময়মতো সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।” তিনি আরও জানান, উৎপাদন বাড়ানোর জন্য ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তবে তা কার্যকর হতে সময় লাগবে।
এই পরিস্থিতি ব্রিটেনের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশটি ইউক্রেনকে সমর্থন দেওয়ার ক্ষেত্রে সামনের সারিতে রয়েছে। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা নীতিনির্ধারকরা আশঙ্কা করছেন, সরবরাহে এই বিলম্ব ইউক্রেনের যুদ্ধ সক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে তাদের প্রতিরোধ দুর্বল হয়ে যেতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি কেবল একটি সরবরাহগত সমস্যা নয়—বরং এটি পশ্চিমা সামরিক জোটের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত প্রস্তুতির একটি পরীক্ষা। যদি দ্রুত উৎপাদন বাড়ানো না যায়, তবে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের নিরাপত্তা সংকট তৈরি হতে পারে।
বর্তমান বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, অস্ত্রের চাহিদাও তত বাড়ছে। কিন্তু সেই অনুপাতে উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়ানো যাচ্ছে না। এতে করে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতিরক্ষা নীতির দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে—এই বিলম্ব কি কেবল সাময়িক, নাকি এটি দীর্ঘমেয়াদি সংকটের ইঙ্গিত? যদি দ্বিতীয়টি সত্য হয়, তবে শুধু ইউক্রেন নয়, বৈশ্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাই এক নতুন অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।