(ভয়েস অব পিপল বিশেষ প্রতিবেদন)
সিলেটে প্রধানমন্ত্রী যেসব উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিলেন
সিলেট প্রতিনিধি, ২ মে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বস্ত্রীক শনিবার বেলা প্রায় ১১টার দিকে সিলেটে পৌঁছান এবং প্রথমেই হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। সেখানে দোয়া ও মোনাজাত শেষে তিনি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানখচিত লাল-সবুজ বাসে করে চাঁদনী ঘাটের উদ্দেশে রওনা দেন।

চাঁদনী ঘাটে পৌঁছে তিনি সুরমা নদীর দুই পাড়ে সৌন্দর্যবর্ধন ও বন্যা প্রতিরোধী অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। এরপর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সিলেট সিটি করপোরেশনের নগর ভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত সুধী সমাবেশে যোগ দিয়ে তিনি দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী সিলেটসহ দেশের সার্বিক উন্নয়নে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন—
যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত খারাপ এবং এতে যাতায়াতে প্রায় ১০ ঘণ্টা সময় লাগে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, সরকার দ্রুত এই সড়কের উন্নয়নকাজ শুরু করবে এবং ২ থেকে ৩ বছরের মধ্যে তা সম্পন্ন করা হবে, যাতে মানুষের ভোগান্তি কমে আসে।

ঢাকা-সিলেট ডাবল রেললাইন
তিনি জোর দিয়ে বলেন, শুধু সড়ক নয়—রেলই হবে ভবিষ্যতের প্রধান ভরসা। ঢাকা-সিলেট রুটে ডাবল রেললাইন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে কম খরচে যাতায়াতের পাশাপাশি ব্যবসায়ীরা সহজে পণ্য পরিবহন করতে পারবেন।
সুরমা নদী কেন্দ্রিক বন্যা প্রতিরোধ প্রকল্প
সিলেট নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে সুরমা নদীর দুই পাড়ে সৌন্দর্যবর্ধন ও বন্যা প্রতিরোধী অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এতে নগরবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
পরিবেশ ও সচেতনতা উদ্যোগ
জলাবদ্ধতা শুধু অবকাঠামোগত সমস্যা নয়, এটি মানুষের আচরণের সঙ্গেও জড়িত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্য যেখানে-সেখানে না ফেলার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে পানি সংরক্ষণ ও পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন।
স্বাস্থ্য খাতে বড় পরিকল্পনা
গ্রামাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে এনএইচএস-এর আদলে একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। সারা দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, যাদের প্রায় ৮০ শতাংশ নারী।
এছাড়া সিলেট মেডিকেল কলেজের অধীনে ২৫০ শয্যার একটি হাসপাতাল দ্রুত চালু করে তা ভবিষ্যতে ১২০০ শয্যায় উন্নীত করার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।
শিল্প ও কর্মসংস্থান
সিলেটে শিল্পকারখানা সম্প্রসারণ এবং আইটি খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। এর মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
ক্রীড়া ও তরুণ উন্নয়ন
প্রতিভাবান শিশুদের খুঁজে বের করতে “নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস” চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে প্রায় ৩০ লাখ শিশুকে ক্রীড়ার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারের অগ্রগতি ও প্রতিশ্রুতি
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের বয়স মাত্র আড়াই মাস হলেও ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা চালু করা হয়েছে।
সবশেষে তিনি দেশের উন্নয়নে সবার অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “করব কাজ, গড়ব দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ।”
সিলেট সফরে প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণা ও কার্যক্রমকে ঘিরে স্থানীয় জনগণের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।