ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি

খরায় খাদ্য সংকটের আশঙ্কা ব্রিটেনে, কৃষকদের সতর্কবার্তা

খরায় খাদ্য সংকটের আশঙ্কা ব্রিটেনে, কৃষকদের সতর্কবার্তা

ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ৩ আগস্ট:

টানা খরা ও তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে ব্রিটেনে কিছু খাদ্যপণ্যের ঘাটতি দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে দেশটির কৃষক সংগঠন। ন্যাশনাল ফার্মার্স ইউনিয়ন (NFU) বলছে, আবহাওয়ার চরম পরিবর্তন কৃষিকে এমন এক সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যা ভবিষ্যতে খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় চাপ তৈরি করতে পারে।

গত কয়েক মাসের প্রতিকূল আবহাওয়ায় ইংল্যান্ডের বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষকরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। শীতকালে অতিবৃষ্টির কারণে অনেক জমিতে ফসল রোপণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এরপর শুরু হওয়া দীর্ঘ খরা ও তাপপ্রবাহে অনেক কৃষক সেচের পানিও পাচ্ছেন না।

এটি গত পাঁচ বছরের মধ্যে ব্রিটেনে তৃতীয় বড় খরা। কৃষি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এমন পরিস্থিতি এখন আর ব্যতিক্রম নয়; বরং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এটি ব্রিটিশ কৃষির নতুন বাস্তবতা হয়ে উঠছে।

NFU সভাপতি টম ব্র্যাডশ বলেন, পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে খাদ্যপণ্যের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে কৃষকদের সহায়তায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

বিবিসি রেডিও ফোরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, কৃষকদের জমিতে পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কর ছাড়সহ বিশেষ সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, “আমরা বর্তমানে যেসব দেশ থেকে খাদ্য ও সবজি আমদানি করি, তাদের জলবায়ুও পরিবর্তিত হচ্ছে। তাই কিছু খাদ্যপণ্যের ঘাটতি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।”

রেকর্ড কম বৃষ্টি, বাড়ছে তাপমাত্রা

ব্রিটেনের আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, চলতি গ্রীষ্মে ইংল্যান্ডে একের পর এক তাপপ্রবাহ দেখা গেছে। জুলাই মাসে দেশটি গড় বৃষ্টিপাতের মাত্র ৮ শতাংশ পেয়েছে, যা রেকর্ডে সবচেয়ে শুষ্ক জুলাই হওয়ার পথে।

খরার কারণে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ মানুষ বর্তমানে হোসপাইপ নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছেন। পানির সংকটের পাশাপাশি শুষ্ক আবহাওয়া দেশজুড়ে দাবানলের ঝুঁকিও বাড়িয়েছে।

সম্প্রতি সাফোকসহ কয়েকটি এলাকায় ভয়াবহ আগুন ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ন্ত্রণে জরুরি সেবা সংস্থাগুলোকে হিমশিম খেতে হয়েছে।

গম ও যব উৎপাদনে বড় ধাক্কা

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গম ও যবের মতো শস্য। কৃষি ও উদ্যান উন্নয়ন বোর্ড (AHDB) জানিয়েছে, অতিরিক্ত গরমের কারণে চলতি বছরের ফসল কাটার মৌসুম রেকর্ড সময়ের আগেই শুরু হয়েছে।

দক্ষিণ ও পূর্ব ইংল্যান্ডের অনেক কৃষক স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দুই থেকে তিন সপ্তাহ আগেই ফসল কাটতে বাধ্য হয়েছেন।

AHDB-এর শস্য ও তেলবীজ বিভাগের পরিচালক অ্যান্থনি হপকিন্স বলেন, অনেক কৃষক দিনের প্রচণ্ড গরম এড়াতে রাতেও কাজ করছেন। তবে তীব্র আবহাওয়ার কারণে এ বছর উৎপাদন গত ১০ বছরের গড়ের নিচে নেমে গেছে।

তিনি বলেন, “পরপর কয়েক বছর কঠিন আবহাওয়া এবং উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির কারণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আর্থিক চাপ এখন ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে।”

তাপ স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি

চলমান তাপপ্রবাহের কারণে ব্রিটেনের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংস্থা (UKHSA) ইংল্যান্ডের আটটি অঞ্চলে তাপ স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করেছে।

পূর্ব মিডল্যান্ডস, পূর্ব ইংল্যান্ড, দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ড ও লন্ডনে অ্যাম্বার সতর্কতা এবং উত্তর-পশ্চিম, ইয়র্কশায়ার ও হাম্বার, ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস এবং দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডে হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভবিষ্যতে এমন চরম আবহাওয়া আরও ঘন ঘন দেখা দিতে পারে। কৃষকদের দাবি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখনই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

NFU সভাপতি টম ব্র্যাডশ বলেন, “ব্রিটেনে খাদ্য উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এটি শুধু কৃষকদের বিষয় নয়, দেশের ভবিষ্যৎ খাদ্য নিরাপত্তার প্রশ্ন।”